মাইলস্টোনের সেই ভিডিও র্যাগিংয়ের নয়!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কিছু শিক্ষার্থীর একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধরেছে পর ৯ জন শিক্ষার্থী। বেয়াদবির অভিযোগে তাকে দেওয়া হচ্ছে শাস্তি। গালাগালি, মারধরের পর একটি পর একটি স্কুলব্যাগ তার কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। তবে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছে, এটা কোন নির্যাতন বা র্যাগিং নয়। নিছক মজা করার জন্যই ভিডিওটা করেছে তার সহপাঠীরা।
সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ জরুরি সভা ডাকে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অনেক ফোন পেয়েছেন। যারা ফোন করেছেন তাদের বড় অংশই সাবেক শিক্ষার্থী ও উৎকণ্ঠিত অভিভাবক। নজর রাখছে পুলিশও।
ভিডিওতে যাকে নির্যাতনের শিকার হতে দেখা গেছে তার নাম আরিফ আহমেদ। তিনি বলেন, ভিডিওটি পুরোনো। ২০১৭ সালের কোনো এক সময়ে ধারণ করা। তখন তিনি ও ভিডিওতে আর যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের সবাই মাইলস্টোন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এখন সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ভিডিওটি এভাবে প্রচারের কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ছিল না। কেউ একজন এটি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক (প্রশাসন) মাসুদ আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা অন্যায় করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে এমন অভিনয় করা তাদের উচিত হয়নি।
যা আছে ভিডিওতে: নয়জন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বসা। একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করছে,‘নাম জানি কি তোর?’। অপর একজন চিৎকার করে বলছে, ‘ভিডিও কর। ভিডিও কর। এই অর্ণব ভিডিও কর।’ এর মধ্যেই ভিডিওতে যাকে হেনস্তা হতে দেখা যায়, সেই ছেলেটি গিয়ে শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয়। একজন ছাত্র তাকে বলে, ‘গেটের মধ্যে ঢোকার সময় একটা বেয়াদবি কর সস।’ আরিফ জবাবে বলে, ‘বুঝতে পারি নাই ভাইয়া।’ তখন তাকে কানে ধরতে বলা হয়।
আরিফ একপর্যায়ে হেসে ফেলে। তখন সে হাসছে কেন বলে প্রশ্ন তুলে একজন তাকে মারতে শুরু করে। মারতে নিষেধ করতে শোনা যায় অন্যান্যদের। আরিফ বলতে থাকে, ‘বুঝি নাই, ভাই।’সবাই মিলে ঘিরে ধরে তাকে কানে ধরতে বলে। আরিফকে উবু হয়ে বসে দু হাত দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়। এক এক করে সব ছাত্রের ব্যাগ তার কাঁধে চাপিয়ে ওঠবস করানো হয়। ভিডিও ক্লিপের শেষে আরিফকে ব্যাগসহ শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।