২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:১২

উৎসবের বাকি সাতদিন, এখনও পৌঁছায়নি অষ্টম-নবম শ্রেণির বই

শিক্ষার্থী  © প্রতীকী ছবি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই নতুন বছরের প্রথম দিন উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারবে সরকার। তবে এখনও সব স্কুলে পৌঁছায়নি অষ্টম নবম শ্রেণির পাঠ্য বই।

শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকের প্রায় সব বই পৌছালেও মাধ্যমিকের ষষ্ঠ আর সপ্তমের সব বই এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পৌছায়নি। এছাড়াও অষ্টম শ্রেণীর কিছু বই এখনো ছাপাই শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও নবম শ্রেণির কোনো বই প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌছায়নি।

যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে নতুন শিক্ষাক্রম হওয়ায় অষ্টম এবং নবম শ্রেণির পান্ডুলিপির অনুমোদন পেতে অনেক সময় লেগে যায়। দেরিতে শুরু হয় এই দুই শ্রেণির বই ছাপা। যদিও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান বলছেন ৩০ ডিসেম্বরই স্কুলে বই পৌঁছে যাবে। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ নতুন বছরের সাত দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে অষ্টম শ্রেণির ৮০ ভাগ বই পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানা যায়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সবচেয়ে সুবিধা হলো- আমাদের বইগুলো বড় চারটা প্রেসের হাতে আছে। তাদের দৈনিক সক্ষমতা, ১০ লাখ বই। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে শ্রেণীভাগ করে কয়েকদিন ধরে বই বিতরণের কাজ করতে পারে। তবে একযুগের বেশি সময়ের ধারাবাহিকতায় এবারও বই উৎসব হচ্ছে পহেলা জানুয়ারি। 

তিনি আরো জানান, অষ্টম শ্রেণির তিন বিষয়ের বইয়ের পাণ্ডুলিপি পেতে দেরি হওয়ায় অষ্টম শ্রেণীর শতভাগ বই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। মূল বইগুলো যথাসময়ে পৌঁছে যাওয়ায় ক্লাস শুরু করতে কোনো সমস্যা হবে না।

প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, দেরিতে বই পৌঁছলে ভোগান্তিতে পড়তে পারে শিক্ষার্থীরা। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অবশ্য বলছে, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব শ্রেণির বই পৌঁছে যাবে। সর্বোচ্চ নতুন বছরের সাত দিন পর্যন্ত বাড়তি সময় লাগতে পারে।

শিক্ষকরা বলছেন, পুরো সেট বই না পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ছন্দপতন হবে। নবম শ্রেণির বই হাতে না পেলেও কতদিনের মধ্যে তা পাওয়া যাবে- সে তথ্যও তাদের কাছে নেই। সেইসাথে পিডিএফ ফাইল প্রিন্ট করার ব্যবস্থা থাকলেও কিছুটা উপকার হতো।

চলতি বছর প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী বছর বাস্তবায়ন করা হবে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে। এরপর ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে, ২০২৬ সালে একাদশ শ্রেণিতে এবং ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে পড়ানোর পাশাপাশি মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে দক্ষতা, সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে শেখাতেই নতুন এই শিক্ষাক্রম চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।