৩০ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:৫০

প্রস্তুতি থাকলেও দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছে না মুন্নি

প্রস্তুতি থাকলেও দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছে না মুন্নি  © সংগৃহীত

আজ থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় দক্ষিণ হর্ণি সৈয়দ তাহেরিয়া দাখিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার। যার ফলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিচার চেয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমুন নেছার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। হর্ণি গ্রামের ওহিদুল ইসলামের মেয়ে মুন্নি আক্তার।  

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার জানান, দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আমি রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপের জন্য সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। কাগজপত্র সহকারে ফরম ফিলাপের জন্য তিন হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন জানাচ্ছে ফরম ফিলাপ সম্পন্ন হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

জানা যায়, মুন্নি আক্তার দক্ষিণ হর্ণি সৈয়দ তাহেরিয়া দাখিল মাদরাসা ২০২৩ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী হিসেবে টেস্ট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। গত ২৭ এপ্রিল তার অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে মাদরাসায় গিয়ে পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে গেলে তার সহপাঠী সকল পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করা হলেও তাকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। পরদিন ২৮ এপ্রিল মাদরাসার অফিস কক্ষে যোগাযোগ করলে রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় তার প্রবেশপত্র আসেনি বলে জানায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আবদুল কাদির বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তারের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ বাবদ মাদরাসার ক্রীড়া শিক্ষক শফিকুর রহমান সবুজ তিন হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে সে তিন হাজার টাকা মাদরাসায় জমা দেয়নি। যার ফলে তার রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় প্রবেশপত্র আসেনি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

আরও পড়ুন: প্রবেশপত্র পেয়েছেন স্কুলের বারান্দায় পরীক্ষার রাত কাটানো শিক্ষার্থীরা

মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, রেজিস্ট্রেশন থেকে ফরম ফিলাপ পর্যন্ত মাদরাসার তিনজন অধ্যক্ষের রদবদল হয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখিত বিষয়টি দুঃখ জনক।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসলিমুন নেছা বলেন, শেষ মুহূর্তে এ ঘটনা অবগত হওয়ার কারণে মেয়েটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আপাতত কিছু করার নেই। লিখিত অভিযোগের আলোকে অত্র প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দশ বছর লেখাপড়া করে দাখিল পরীক্ষার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তারের তা বুঝি আর পূরণ হলো না। স্থানীয়রা মাদরাসার কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।