প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পেতে প্রাথমিক শিক্ষকদের আল্টিমেটাম
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পেতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের দেয়া আশ্বাস অনুযায়ী আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের অপেক্ষা করবেন তারা। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ফের কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেড নিয়ে অসন্তোষ দূর না হওয়ায় করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি সভা শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র মো. বদরুল আলম। মূলত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পর কর্মসূচি ও অন্য করণীয় বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জুম্মার নামাজের পর দ্বিতীয় পর্বে ফের সভায় বসেন তারা। সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন পরিষদের শিক্ষক নেতারা। পরিষদের ১৪ টি সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকরা রাজধানী ঢাকায় চলমান জরুরি সভায় বসেছেন। সেখানে সব শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে জরুরি সভা শেষে সিদ্ধান্তের বিষয় নিশ্চিত করে প্রাথমিক বিদ্যালয় ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র মো. বদরুল আলম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আমাদের বলেছেন ১ তারিখে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে যাবেন। আগামী ১৭ নভেম্বর তারিখ তিনি শিক্ষকদের সাথে বসবেন। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। তারপরও যদি তা না হয় তবে কঠোর আন্দোলনে যাবে শিক্ষক সমাজ।
বদরুল আলম বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষকদের আন্দোলন করার কারণে শোকজ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের হয়রানি করা হচ্ছে। অবিলম্বের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা উপজেলার কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মূলত এর মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি আরো বৃদ্ধি করা হবে।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে করার দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এমনকি মন্ত্রণালয়ও শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন।
তবে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতেই চলমান পরিস্থিতির সুরাহা মিলতে পারে। সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সাবের হোসেন ও পরিচালক (পলিসি) ড. খান মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের সভায়ও বিষয়টি উঠে আসে।
শিক্ষক নেতারা জানান, প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের বিষয়ে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত এবং সেখানেই তার সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহবান করেন তারা।
এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. জাকির হোসেন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা বসেন শিক্ষক নেতারা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে এলেই সাক্ষাতের সময় পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নতুন গ্রেডে যেন কমে না যায় সেজন্য সজাগ রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একইসঙ্গে শিক্ষকদের দাবিসমূহ পূরণে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, সহকারী শিক্ষকদের ভাষ্যমতে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। তাদের দাবি ছিল প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড। প্রধান শিক্ষকরা ১১ তম গ্রেড হলে তাদের দাবি ১২ তম। আর প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে পৌঁছলে আমাদের ১১তম গ্রেড দিতে হবে।
কিন্তু খসড়া বিধিমালায় সেই দাবির প্রতিফলন নেই। স্বভাবতই নতুন পন্থা খুঁজতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষকের পরেই তাদের বেতন রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, বিষয়টি আত্মসম্মানের বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।