১৮ আগস্ট ২০১৯, ১১:৪৫

ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা কাটাতে ‘মডেল শিক্ষক’ বাছাই

  © ফাইল ফটো

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্যতার বিচারে ‘মডেল শিক্ষক’ বাছাই করতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়  সরকার। এই শিক্ষকদের দিয়ে সংশ্নিষ্ট উপজেলার অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলোর দুর্বল শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হবে। এতে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি দুই হাজার মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এটি করতে একটি চুক্তিও সই হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, ভালো শিক্ষকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিনিময় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে আগের ও নতুন দুই ধরনের শিক্ষক থাকলে সেটা শিক্ষার্থীদের জন্যও ভালো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র জানায়, উপজেলা পর্যায়ে ফলের দিক দিয়ে সেরা স্কুলগুলোর শিক্ষকদের মধ্য থেকে ‘মডেল শিক্ষক’ নির্বাচন করা হবে। উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ের ফল ভালো নয়, সেসব বিদ্যালয়ে এই শিক্ষকদের মাধ্যমে  শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়কে তাগাদাও দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, মডেল স্কুলের সব ভালো শিক্ষককে ক্লাস করাতে অন্যত্র নিয়ে গেলে সেইসব স্কুল চলবে কী করে? তাই আপাতত মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভালো স্কুলগুলো ভিজিট করে তাদের ‘গুড প্র্যাকটিস’গুলো নিয়ে দুর্বল স্কুলগুলোতে কাজে লাগাতে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিত আর ইংরেজির দুর্বলতা কাটাতে শিক্ষকদের ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণিত বিষয়ে আটটি গণিত অলিম্পিয়াড থেকে ১০ জন করে নিয়ে ৮০ জন শিক্ষকের ওপরে আমরা পাইলটিং করছি। ক্রমান্বয়ে তা আরও বাড়ানো হবে। এই শিক্ষকরা পরে উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে অন্য শিক্ষকদের গণিতের ওপরে প্রশিক্ষণ দেবেন। একইভাবে ইংরেজিতে দুই হাজার মাস্টার ট্রেইনার (প্রধান প্রশিক্ষক) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের পিটিআইগুলোতে এ জন্য ১০০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় সেখানে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। আইএলটিএসে পাঁচ অথবা সাড়ে পাঁচ পাওয়া দুই হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে বাছাই করে আমরা তাদের হাতে তুলে দেব। ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। এভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকরা মনে করছেন, অনেক বিদ্যালয়ে পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। তাই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তাদের নিজ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়ে সম্মানজনক ভাতা দিয়ে পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তা প্রাথমিক শিক্ষার জন্য কল্যাণকর হবে। তবে প্রতিটি উপজেলায় মডেল প্রাথমিক শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার তেমন প্রয়োজন আদৌ আছে কি না এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।