প্রাথমিকে নিয়োগ: পরীক্ষা শুরুর আগেই মেসেঞ্জারে উত্তর পাঠাচ্ছিলেন সেতু
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া থেকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য শিমুল সীমান্ত সেতুকে (২২) আটক করেছে র্যাব। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরীক্ষার দিন সকাল বেলায় মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রশ্ন পাঠাচ্ছিলেন তিনি। তবে তার সেই প্রশ্ন সঠিক না ভূয়া- সেটা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার মধ্যরাতে র্যাব-১৩ কোম্পানি কমান্ডার মুন্না বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক শিমুল সীমান্ত সেতু ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে।
র্যাব-সূত্রে জানা যায়, বগুড়া টিএমএসএস পলীটেকনিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শিমুল সীমান্ত দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে দেয়ার চেষ্টা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ কোম্পানি কমান্ডার মুন্না বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে দুটি মোবাইলে প্রমাণসহ তাকে গ্রেফতার করে।
এদিকে একই অভিযোগে নেত্রকোনায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৩০ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রীয় পৌর শহরের শামীম আহমেদ নামের এক ব্যক্তির বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। চক্রটির প্রধান মুন্নাফকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
নেত্রকোনার কেন্দ্রীয় থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে মুন্নাফ ও বুলবুল ছাড়া কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আটক করা ব্যক্তিদের থানা-পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ওসি বলেন, আটক করার সময় তাদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়। তারা ওই ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করছিলেন।
সহকারী পুলিশ সুপার কেন্দুয়া সার্কেল মাহমুদুল হাসান জানান, ওই চক্রটি শামীমের মিলে বিভিন্ন প্রশ্নপত্র যোগার করে ফাঁস করার চেষ্টা করছে বলে গোপন সংবাদে খবর পেয়ে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।