০৬ মার্চ ২০১৯, ১১:১৯

প্রাথমিকের জন্য পাঁচ সুখবর আসছে

  © ফাইল ফটো

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে গ্রেড পরিবর্তন করে বেতন বাড়ানোসহ অন্তত পাঁচটি ক্ষেত্রে সুখবর পেতে যাচ্ছেন তারা। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিধিমালা রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেছেন এবং শিগগিরই তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গেজেট আকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সুত্র জানিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের ফলে গ্রেড পরিবর্তিত হয়ে সহকারী শিক্ষকরা ১২তম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন পাবেন। এর আলোকে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বেতন গ্রেডও সংশোধন করা হচ্ছে। এ আলোকে সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বেতনের ধাপ নবম থেকে সপ্তম গ্রেডে উন্নীত করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

সংশোধিত বিধিমালায় প্রাথমিকে ‘সহকারী প্রধান শিক্ষক’ নামে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে প্রায় ৬৫ হাজার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। বিধিমালার গেজেট প্রকাশের পর এ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তবে তার আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্যপদে আরও ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আসতে পারে বলে জানা গেছে।

সুত্র জানায়, ১৭ হাজার শিক্ষকের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার ও অন্য স্তরে সহকারী শিক্ষক পদে সাত হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে (ডিপিই) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে গত বছরের জুনে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিলো। তবে ২৪ লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করায় পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী ১৫ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে লিখিত পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ১৩ মার্চ ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯’ শুরু হতে যাওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ১৩ মার্চের পর মন্ত্রণালয়ে সভা করে লিখিত পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলের পরিবর্তনে প্রধান শিক্ষকরা খুশি হলেও সহকারী শিক্ষকরা খুশি নন বলে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সহকারী প্রধান শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে তাদের দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। পদটি না থাকলে এক ধাপ পদোন্নতি পেয়েই প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে। 

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড। কিন্তু সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি হলে ওই পদে পদোন্নতি পেলেও এমনিতেই ওই পদের স্কেলে বেতন পাবে শিক্ষকরা। এতে বেতন বৈষম্য থেকেই যাবে।’ এজন্য প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেডে বেতনে দেওয়ার দাবি করেন তিনি।

গ্রেড পরিবর্তন : প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীর হলেও তারা ১১তম গ্রেডে বেতন পান। তবে দ্বিতীয় শ্রেণীর অন্য সব চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। এমনকি ৩৪তম বিসিএসে দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগের সুপারিশ করার সময় সবাই দশম গ্রেড পেলেও প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড পেয়েছেন। ফলে একাধিক সংগঠন দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছে। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পান। ফলে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ।