প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অবসান হবে তো!
অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ, তথ্য গোপন, স্কুল পরিচালনায় বিধি পরিপন্থী কার্যকলাপ, শিক্ষার্থীদের অমানবিক শাস্তি সবই এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ। তিনি হলেন বালাগঞ্জের পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের গালিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিত কুমার বৈদ্য।
বিগত পাঁচ বছরে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে একাধিক অভিযোগপত্র প্রেরণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, দু’একটি অভিযোগের তদন্ত হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা হচ্ছেনা। এছাড়া আরও একাধিক অভিযোগের কোনো তদন্ত না করে সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফাইল বন্দি অবস্থায় আছে।
চলতি বছরের ৬ অক্টোবর প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে অত্র স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ৭জন শিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিঠিয়ে আহত করেন এক সহকারী শিক্ষিকা। এই ঘটনার দ্বায় এড়াতে প্রধান শিক্ষক কৌশলে স্কুল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের পিঠিয়ে আহত করার ঘটনায় তদন্ত হয়। এর প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষক স্কুল ফাঁকি দিয়ে অন্যত্র অবস্থান করা এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এছাড়া বিগত ৫ বছর ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পরিচালনা কমিটিহীন বিদ্যালয় পরিচালনা এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর অভিভাবকদের পক্ষে ইউপি সদস্য ঝন্টু দাস, অভিভাবক করুণাময় দাশ, বেণু দাশ, জগদীশ দাশ, কর্ণমণি দাশসহ শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ আবারও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। ওই অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন সময়ে দাখিলকৃত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানানো হয়। তবে এ বিষয়েও এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক অসিত কুমার বৈদ্য চাকরীর বিধিমালা লঙ্ঘন করে ২০০৪ সালে গালিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ, তথ্য গোপন, মনগড়াভাবে স্কুল পরিচালনা ও বিধি পরিপন্থী কার্যকলাপসহ নানা অনিয়ম করে আসছেন।
এছাড়া অসিত কুমার বিরুদ্ধে তিন বছরের জাল অভিজ্ঞতা সনদে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রাপ্তির অভিযোগ এনে ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়। তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৬ সালের ৮ জুন সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালকের নিকট আরেকটি অভিযোগ দেয়া হয়।
নীতিমালা লঙ্ঘন করে অত্র স্কুলে যোগদান ও অনিয়ম করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৭ জুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকটও অভিযোগ দেয়া হয়। এছাড়া বিধি বহির্ভূতভাবে পরিপত্র লঙ্ঘন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংক্রান্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) রতন চন্দ্র সরকার স্বাক্ষরিত ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। কিন্তু অসিত কুমার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাকে হাত করে নেয়। ফলে তার বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গালিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিত কুমার বৈদ্য বলেন, তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো আদৌ সত্য নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এছাড়া কমিটি স্কুল পরিচালনা গঠন করেন শিক্ষা কর্মকর্তারা এখানে আমার একক কোনো কর্তৃত্ব নেই।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক সাফায়েত আলম বলেন, আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।