পটুয়াখালীর ছয় স্কুলের পাশে জরাজীর্ণ ভবন, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
লাল ইটের চোখ ধাঁধানো স্কুল দালান। সকাল থেকে শুরু হয় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। চলে বিকাল পর্যন্ত। ক্লাস, খেলাধুলা ও আনন্দ হইহুল্লোড় সবই চলে এ দালান ঘিরে। তবে বাধ সেধেছে পাশে থাকা দানবের রূপ নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ জরাজীর্ণ ভবনগুলো। ফলে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে ঝুঁকির মধ্যে। ছোটখাটো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবন থাকলেও পাশে থাকা জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনগুলো যেন মরণফাঁদ। এই ঝুঁকিপূর্ণ দুরবস্থা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গহিনখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাউখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাববুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজীকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চিনাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নতুন ভবনের ১০-১৫ফুট পাশে থাকা পুরাতন ভবন গুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে আছে। ফলে ওই সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে থেকে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে এবং পরিত্যক্ত ভবন গুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মাঠও অনুপযোগী হয়ে আছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশে থাকা পুরাতন ভবনগুলো ১৯৭৭ সালে নির্মিত হয়েছে বলে এলাকাবাসীরা জানান। যা মেরামত অযোগ্য এবং ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে অবকাঠামোগুলো ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করেছে।
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুস সালাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ১৯৭৭ সালের পরে নির্মিত হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ‘নতুন ভবনের পাশে থাকা পুরাতন ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়তেছে প্রতিদিন। ফলে ওই ভবনগুলোর পাশে থাকা মাঠে ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলা করে আসছে শিক্ষার্থীরা। যেকোনো সময় পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবননাশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করাতে হয়। ভবন অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মিম বলেন, ‘প্রতিদিন ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে, তাই খেলাধুলা করতে ভয় লাগে, খেলাধুলা শুরুর আগে ভবনের ছাদের দিকে তাকাই। ক্লাসে গেলেও খুব ভয় লাগে, কখন যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে নতুন ভবনটিও ভেঙ্গে যায়।’
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফজলে আকবর লিটন বলেন, ‘স্কুলটির নতুন ভবনের সাথে থাকা পুরাতন ভবনটির আস্তর ভেঙ্গে পড়ায় আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে ক্লাস করছে। এ সকল বিষয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি।
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. মান্নান হাওলাদার জানান, ‘আমার ইউনিয়নে তিনটি জরাজীর্ণ সরকারি ভবন রয়েছে। এগুলো অপসারণের জন্য ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভা করে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্তৃক প্রাপ্ত ছয়টি পুরাতন ভবনের রেজুলেশনের ভিত্তিতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের প্রস্তাব ইতোপূর্বে প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলে পরিত্যক্ত ভবন গুলো অপসারণ করা হইবে’।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক প্রাপ্ত ছয়টি পুরাতন ভবনের রেজুলেশনের ভিত্তিতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের প্রস্তাব ইতোপূর্বে প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলে পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণ করা হবে’।