২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:০২

স্নাতকে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ

স্নাতকে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি কলেজ ইনিশিয়েটিভ (সিসিআই) কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজে পড়ার সুযোগ পাবেন। ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রমে ভর্তি হতে পারবেন। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এ স্কলারশিপ এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে এক শিক্ষাবর্ষে থাকার জন্য কোনো একটি কলেজে ভর্তি হতে আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তবে পড়াশোনা শেষে নতুন জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের আবার দেশে ফিরে আসতে হবে।

বাংলাদেশের আমেরিকান অ্যাম্বাসি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, গত ৯ বছরে বাংলাদেশের ৬৬ শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। কমিউনিটি কলেজ ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচির অধীন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি কলেজগুলোতে কৃষি, ফলিত প্রকৌশল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন, প্রাক-শৈশব শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যম, সামাজিক সেবা, স্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন।

মেধার ভিত্তিতে এ স্কলারশিপ প্রদান করা হবে।প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের সামর্থ্য ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকান সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁদের ধারণা ও বোঝাপড়া আরও স্বচ্ছ ও গভীর করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

সুযোগ-সুবিধাসমূহ:

  • নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জে–১ ভিসা পাবেন।
  • সীমিত দুর্ঘটনা ও অসুস্থতাজনিত ভাতা।
  • যুক্তরাষ্ট্রে আসা-যাওয়ার বিমান খরচ।
  • টিউশন ও কলেজ ফি।
  • আবাসন ও খাবার খরচ।
  • বই, শিক্ষা উপকরণ ও সাধারণ ব্যয়ের জন্য আর্থিক সুবিধা।

আবেদনের যোগ্যতা:

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • ২০২৩ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ন্যূনতম ১৮ বছর বয়সী হতে হবে।
  • স্নাতকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী হতে হবে। তবে শেষ বর্ষ আবেদনের যোগ্য নয়।
  • ইংরেজি দক্ষতা থাকতে হবে।TOEFL স্কোর ৪২০ বা IELTS স্কোর ৫.০ পেতে সক্ষম হতে হবে। ইতিমধ্যে TOEFL বা IELTS-এর স্কোর থেকে থাকলে, সেটি আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে,  আবেদনের আগে ইংরেজি পরীক্ষার স্কোর থাকলে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় সুবিধা পাওয়া যাবে।
  • পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে আসতে হবে।
  • আবেদনকারী কোনো অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে বা কখনো দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া:

আবেদন পত্র অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা মধ্যে আমেরিকান সেন্টারের ঠিকানায় (আমেরিকান সেন্টার, ইউএস দূতাবাস অ্যানেক্স, জে ব্লক, প্রগতি সরণি, বারিধারা, মার্কিন দূতাবাস কার্যালয়ের বিপরীতে, ঢাকা–১২১২) পাঠাতে হবে। আবেদন ফরম পেতে ও বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন https://bd.usembassy.gov/29033/ । এছাড়া বিস্তারিত তথ্যের জন্য ShahidTX@state.gov ঠিকানায় ই–মেইল বা (০২) ৫৫৬৬–২৮০৮ নম্বরে ফোন করা যাবে।

আবেদনকারীর জন্য নির্দেশনা:

পূরণ করা মূল আবেদনপত্রের শেষ পাতায় প্রার্থীকে স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হবে। ইংরেজি আবেদনপত্রে দেওয়া সব প্রশ্নের উত্তর দিতে (সুনির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত) হবে। কোনো ঘর ফাঁকা রাখা যাবে না। কোনো প্রশ্ন আপনার জন্য প্রযোজ্য না হলে N/A (not applicable) দিন। আন্তর্জাতিক পাসপোর্টে উল্লেখিত বানান অনুযায়ী আইনসম্মত সম্পূর্ণ নাম বা পারিবারিক নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যোগাযোগের পূর্ণ ঠিকানার মধ্যে সব ঠিকানার ডায়ালিং কোড এবং সব ফোন নম্বরের সিটি/কান্ট্রি কোড অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নিজের মুঠোফোন নম্বর দিতে হবে এবং কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করা যাবে না। আবেদন কম্পিউটারে টাইপ করতে হবে, শুধু শেষ পাতায় প্রার্থীকে স্বাক্ষর দিতে হবে।

আবেদনকারীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার নম্বরপত্র/ও লেভেল এবং এ লেভেলের ট্রান্সক্রিপ্ট/গ্রেড শিট/বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ট্রান্সক্রিপ্ট (সর্বশেষটি) সংযুক্ত করতে হবে। সনদের প্রয়োজন নেই। শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া ন্যূনতম একটি সুপারিশপত্র সংযুক্ত করতে হবে আবেদনে। এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও আবেদনকারীর পাসপোর্টের তথ্য পাতার ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।

সরাসরি আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: মুশফিক হাসান, দ্য আমেরিকান সেন্টার, ইউএস দূতাবাস অ্যানেক্স, জে ব্লক, প্রগতি সরণি, বারিধারা, মার্কিন দূতাবাস কার্যালয়ের বিপরীতে, ঢাকা-১২১২। কুরিয়ারে আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: মুশফিক হাসান, প্রযত্নে: মেইলরুম সার্ভিস, ইউএস দূতাবাস, মাদানি অ্যাভিনিউ ঢাকা -১২১২।