ফল প্রকাশের ২ মাস পরও মার্কশিট না পাওয়ায় চাকরির আবেদনে ভোগান্তি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৬-১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মার্কশিট পায়নি শিক্ষার্থীরা। ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে নানাবিধ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এসব শিক্ষার্থীর অভিযোগ, গত ৫ জানুয়ারি তাদের ফলাফল প্রকাশিত হলেও তারা এখনও মার্কশিট তুলতে পারেনি। ফলে কিছু চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে মার্কশিট না থাকায় আবেদন করতে পারছি না।
জানা যায়, জবির আইটি দপ্তরের সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফল তৈরির কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজ। দীর্ঘদিনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর কাজের জন্য মার্কশিট প্রস্তুতে দীর্ঘসূত্রিতা, পুনঃভর্তি সমন্বয়ে জটিলতা, প্রকাশিত ফলাফলের ভুল সংশোধনে সমস্যা, শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও সামারিশিট যাচাইয়ে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ও চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
তথ্যমতে, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীদের ফলাফল এই বছরের ৫ জানুয়ারী প্রকাশিত হয়। সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কশিট দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের ২ মাস পেরোলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের মার্কশীট হাতে পাননি আইটি দপ্তরের সফটওয়্যারের জটিলতার কারণে।
শুধু ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগেই নয়; একই সমস্যার কারণে বিভিন্ন চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান, ইংরেজি, বাংলা, পরিসংখ্যান, পদার্থ বিজ্ঞান, আইন বিভাগ এর ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীদের। সফটওয়্যার এর ত্রুটির কারণে যে সকল শিক্ষার্থী এক সেশন থেকে অন্য সেশনে রিএডমিশন বা পুনঃভর্তি হয় তাদের ভর্তির তথ্য সফটওয়্যারে সমন্বয় হতে জটিলতা দেখা দেয়।
এছাড়াও মানোন্নয়ন পরীক্ষা, রিটেক পরীক্ষা, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা, কমপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার জন্য নিয়ম অনুযায়ী আলাদা বিধি থাকলেও সফটওয়্যারে তা আলাদাভাবে দেখানো হয় না। এবং নিয়ম অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থী কোন পরীক্ষায় কোন কোর্সে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিলে সেই শিক্ষার্থী ওই কোর্সে গ্রেড ‘বি+’ এর বেশি পাওয়ার নিয়ম না থাকলেও সফটওয়্যার তা বুঝতে পারে না। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রকাশিত ফলাফলে কোন ধরনের ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও সামারিশিট যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও জটিলতায় পড়তে হয় সফটওয়্যারের অব্যবস্থাপনার কারণে।
এ বিষয়ে জবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে এম আক্তারুজ্জামান বলেন, এসকল বিষয়ে সমন্বয় সভা করে কি কি সমস্যা হচ্ছে এগুলো উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, সাক্ষাৎ করে জানিয়েছি, মিটিং এর মাধ্যমেও জানিয়েছি। আমি না শুধু যেসকল বিভাগ এসকল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেসকল বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষকেরাও জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোন সমাধান পাইনি।
সফটওয়্যার সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে নেটওয়ার্কিং ও আইটি দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, আমাদের সফটওয়্যারগত ত্রুটি ছিলো। আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে।