১০ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৪৬

‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে চর্চা করতে হবে’

  © টিডিসি ফটো

যথাযোগ্য মর্যাদায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল কালজয়ী মুজিবে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টায় এক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাব মিলনায়তনে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) এর উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা বলেন, ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে শারীরিকভাবে হত্যা করতে পারলেও তাঁর আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি। আজ বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই সত্যি, কিন্তু তাঁর আদর্শ বেঁচে আছে। এই আদর্শকে ধারণ করে দেশকে তাঁর স্বপ্নের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার মধ্যেই তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আরও চর্চা করতে হবে।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যদি দেশে ফিরে না আসতেন তা হলে দেশের পরিস্থিতি কি হতো তা নিয়ে নানা সংশয় ছিলো। কারণ, হাজার-হাজার মানুষের কাছে তখনও অস্ত্র ছিলো। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা বঙ্গবন্ধু ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব ছিলো না।

স্বাশিপের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাতের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেব খুবি ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ প্রত্যক্ষদর্শ্যী হিসেবে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধু কতৃক মহান স্বাধীনতা ঘোষণার পর তাঁকে পাকিস্তান সরকারের হাতে গ্রেফতার হওয়া, পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া, বিভিন্ন কারাগারে রাখা থেকে একাত্তরের দশই জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের মহানায়ক, তাকে কেন্দ্র করেই সবকিছু আবতীর্ত হয়েছে। তাঁর আদর্শ ধারণ ও লালনের মধ্যেই আমাদের অর্থনৈতিকসহ সকল মুক্তি নিহিত।

স্বাশিপের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আশীষ কুমার দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন পরিষদের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহান।

তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালীন থেকে দশই জানুয়ারির প্রেক্ষাপট ও তথ্য সম্বলিত নানান ঘটনা বিবৃত করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরা নানাজনে নানান স্বার্থে ব্যবহার করছি, কিন্তু আসলে প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুকে চর্চা করা ও তাঁর আদর্শকে মনেপ্রাণে ধারণ করা। এসময় স্বাশিপের সদস্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।