বেরোবি শিক্ষকের ‘অবৈধ’ নিয়োগ বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধানের ‘অবৈধ ও জালিয়াতির মাধ্যমে’ নিয়োগ বাতিল চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একই বিভাগের শিক্ষক মাহামুদুল হকের জ্যেষ্ঠতা, জ্যেষ্ঠতানুযায়ী পদোন্নতি, বকেয়া বেতন ও চাকরির আনুতোষিক বিষয়াদি প্রদানেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই নোটিশে। তাবিউরের নিয়োগ বাতিলসহ মাহামুদুলকে তার ওইসব অধিকার ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া না হলে আদালতে মামলা করা হবে বলে হুশিয়ার করা হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একই বিভাগের শিক্ষক মাহামুদুল হকের পক্ষে আজ বুধবার (৯ ডিসেম্বর) নোটিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং ওই বিভাগের প্রধানকে পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূম। এরপর আইনি নোটিশটি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।
এতে বলা হয়েছে, মাহামুদুল হকের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোট মাহামুদুল হককে ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি গঠিত নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুয়ায়ী নিয়োগ দিতে বলেন। হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ওই রায় দেন কিন্তু উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর নেতৃত্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই রায় বাস্তবায়ন করেনি। এরপর মাহামুদুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও করেন যা এখনো চলমান রয়েছে।
উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে উদ্দেশ্য করে ওই নোটিশে বলা হয়েছে, যদিও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় যোগাদান করতে দিয়েছে মাহামুদুল হককে কিন্ত তিনি আদালতের রায় অনুযায়ী (ওই বাছাই বোর্ড অনুযায়ী) তাকে নিয়োগ দেননি যা আদালত অবমানকর।
নোটিশে আরো বলা হয়েছে সবোর্চ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী মাহামুদুল হককে বর্তমান উপাচার্য নিয়োগ দেননি যার ফলে তিনি ‘জালিয়াতি ও অবৈধভাবে’ নিয়োগপ্রাপ্ত তাবিউর রহমানসহ দুইজন শিক্ষকের চেয়েও জুনিয়র এখন বিভাগে। এমনকি, মাহামুদুল হককে সম্প্রতি পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, উপাচার্য পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির অনুমতি না দেওয়ায় মাহামুদুল হক গত বুধবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর চ্যান্সেলর এবং রাষ্ট্রপতির নিকট এক আপিল আবেদনে এর প্রতিকার চেয়েছেন এবং জ্ঞানার্জনবিরোধী এ কর্মকান্ডের জন্য উপাচার্যের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ করেছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর আইন-২০০৯ এর ধারা ৯ (৪, ৫) অনুযায়ী তিনি এ প্রতিকার চেয়েছেন।
বাছাইবোর্ড ও সিন্ডিকেটের নথিতে দেখা যায়, ২০১২ সালে ১৩ জানুয়ারি বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী মেধা তালিকায় থেকে একজন যোগদান না করায় অপেক্ষমান তালিকার প্রথম মাহামুদুল হক-এর যোগদান করার কথা। বাছাই বোর্ডের সুপারিশপত্রে তাবিউর রহমানের নামই ছিল না। পরে কম্পিউটারে প্রিন্টকৃত ১ ও ২ নম্বর সিরিয়ালের পরে ৩ নম্বর সিরিয়াল হাতে-কলমে লিখে অপেক্ষামান তালিকায় তৃতীয় হিসেবে জালিয়াতি করে তাবিউরের নাম অর্ন্তভুক্ত করে ২২তম সিন্ডিকেটে পাস করা হয়। ২৩তম সিন্ডিকেটে তাবিউরের নিয়োগটি বাতিল করা সত্ত্বেও আবার জালিয়াতি করে তার নামটি নিয়োগের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। অথচ বাছাইবোর্ড অনুযায়ী ওই তালিকায় প্রথম মাহামুদুল হকের নিয়োগ পাওয়ার কথা ওই সময় থেকেই। মাহামুদুল হক হাইকোটের রায়ে ১০ মার্চ ২০১৯ ওই বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
এ বিষয়ে মাহামুদুল হক বলেন, যেহেতু মহামান্য হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ২০১২ সালের বাছাই বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সেহেতু উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল এখনো বলবৎ আছে। নোটিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনে আদালত অবমাননার মামলায় তাদের আদালতে হাজির করার আবেদন করবো।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান তাসনীম হুমায়দা নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল মাহামুদুল হক নিজে এসে আমার কাছে আইনি নোটিশ পৌঁছে দিয়েছেন। আর আমার জানা মতে, উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার এই নোটিশ দু’দিন আগেই পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মাহামুদুল হক অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনিভাবে লড়ছেন, সেজন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। হাইকোর্ট যেহেতু রায় দিয়েছেন, সেহেতু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই কাজ করতে হবে। আসলে এক পদে তো দু’জনের চাকরি করার অধিকার নেই। আইনের বিষয়টি মাথায় রেখে একাডেমিক কমিটির সঙ্গে আমরা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর দপ্তরে গেলে, দপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানা তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।