২১ আগস্ট ২০২০, ১৬:৫৫

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে: উপাচার্য হারুন

  © টিডিসি ফটো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। আজও আমরা পরাধীন থাকতাম। ৭৫-এর ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী ও মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি বিশেষের ষড়যন্ত্রের নীল নকশা অনুযায়ী একদল ঘাতক ও খুনি সেদিন শুধু রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকেই হত্যা করেনি, আমাদের জাতির পিতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকেই হত্যা করে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগে এক আলোচনা সভায়  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

‘বঙ্গবন্ধু: মানব ইতিহাসে মৃত্যুহীন এক মহাপ্রাণ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে উপাচার্য বলেন, হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের ভিত্তিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক, বেসামরিক ও সাম্প্রদায়িক ধারায় দেশকে ফিরিয়ে নেওয়া। অতএব এ হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তাই হত্যাকারীরা রাষ্ট্রদ্রোহী ও মানবতার শত্রু।

তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জেনারেল জিয়া ও খোন্দকার মোশতাক যে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল ১৫ই আগস্টের পূর্বাপর ঘটনাবলী তা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে। তবে এই নৃশংস হত্যাকা-ের সঙ্গে আরও অনেকে যে জড়িত ছিল তাতে সন্দেহ নেই। আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের সামনে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের প্রয়োজনে

এখন সময় হয়েছে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা। যারা ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন/পরিবর্তন করে তাদেরও মরণোত্তর বিচার হওয়া আবশ্যক, যোগ করেন প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি, এক ও অভিন্ন সত্তা। জাতির পিতা মুজিবের মৃত্যু নেই।

সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড হল নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড। মানব জাতির ইতিহাসে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড বিরল। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের কয়েকজনের বিচারের রায় ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। বিদেশে যারা এখনো পালাতক রয়েছে বা আশ্রয় নিয়েছে তাদেরকেও দেশে এনে আইন অনুযায়ী বিচারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। সভায় নির্ধারিত দুইজন আলোচক ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব জনাব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সভার সমাপনীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মো. আমিনুল ইসলাম খান।