০৩ মে ২০২০, ২৩:৩৬

অনলাইন ক্লাস: শতাধিক শিক্ষককে ক্যাম্পাসে ডেকেছে চবি

করোনার সংক্রমণের ফলে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস নেওয়া যায় কিনা সে বিষয়ে সভা আহবান করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে এটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি এসি বাসে চড়ে ওই সভায় যোগ দিতে ক্যাম্পাসে যাবেন শতাধিক শিক্ষক।

যার মধ্যে রয়েছে সকল ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও শিক্ষক সমিতির নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সভার আহবান করা হয়। এ সভা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ সময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা-কার্যক্রম সচল রাখতে অনলাইনের ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্ত কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চবির ৯টি অনুষদের ডিন, ৫৪টি বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রধানদের নিয়ে উপাচার্য সভাকক্ষে সভা আহবান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এ সভায় ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর, আইসিটি সেলের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে শতাধিক শিক্ষককে ডেকে সভা আহবানের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে সবাইকে যখন ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে, সে পরিস্থিতিতে এ সভা আহবান করা অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন প্রশাসনের কাছে অপ্রত্যাশিত বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চবির এক ডিন বলেন, সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের একসঙ্গে জড়ো করে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আয়োজনটাই এই মুহুর্তে আত্মঘাতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে ইউজিসি একটা নির্দেশনা দিয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সোমবার একটি মিটিং ডেকেছি। যারা সভায় আসতে পারবেন না তাদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে আমরা কথা বলবো।