করোনা মোকাবিলায় লাইভ স্ট্রিমিংয়ে ফান্ড সংগ্রহ করছে জাবি
করোনাভাইরাস সঙ্কটে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহে এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহ করছেন তারা। আর এ অভিনব কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনস্থল ‘আমরাই জাহাঙ্গীরনগর’ ও ‘শুধুই জাহাঙ্গীরনগর’ নামের ফেসবুক গ্রুপ। প্রতিরাতে গ্রুপ দুটিতে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই চলে সাংস্কৃতিক আয়োজন। আর এভাবেই ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসচ্ছল শিক্ষার্থী, দোকানদার, চাওয়ালা, শিশু ও রিকশা চালকদের জন্য গড়ে উঠছে ‘করোনা ফান্ড’।
অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে গানের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের আবৃত্তি সংগঠন ধ্বনি’র বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, নাচতে ভালোবাসা শিক্ষার্থীদের মডার্ন ও ক্লাসিক নাচ ছাড়াও চলে পাপেট শো’র মতো আয়োজন।
এ বিষয়ে ‘আমরাই জাহাঙ্গীরনগর’ ফেসবুক গ্রুপে এমন আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, ‘চলমান মহামারিতে পর্যুদস্ত টিউশন ও খণ্ডকালীন কাজ করে পরিবার চালানো শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা এসব অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। সেজন্য ব্যতিক্রমী কিছু করার পরিকল্পনা থেকে এবং ঘরে আবদ্ধ থেকে বিরক্ত হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সাময়িক আনন্দ দিতে আমাদের এ আয়োজন।’
‘শুধুই জাহাঙ্গীরনগর’ নামে ফেসবুক গ্রুপের আয়োজক ও ইতিহাস বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান শুভর উদ্দেশ্যও অভিন্ন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন মূলধারার অনুশীলন থেকে দূরে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যারা শিল্পচর্চার মধ্যে আছেন, তাদের অনুশীলনের ব্যবস্থা এবং ঘরবন্দি জীবনে প্রশান্তি আনতে আমাদের এ আয়োজন। এর পাশাপাশি আয়োজনটি অসচ্ছল শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসের স্টাফদের সাহায্য করতে অবদান রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় শো’ সারেগামাপার প্রতিযোগী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অবন্তী সিথী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বাংলা ফাইভ ব্যান্ডের সিনা হাসান, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ফিজ আপ চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ-২০১৭ এর ফাইনালিস্ট নুশিন আদিবা, অর্থনীতি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ-২০১১ এর ফাইনালিস্ট প্রিয়াঙ্কাসহ গান গেয়েছেন দেশসেরা গায়করা।
এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে উৎফুল্ল পারফর্মাররাও। তারা জানিয়েছেন, আগে দেখা যেত, প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রোগ্রাম, ক্লাস, পরীক্ষার জন্য বাইরে ব্যস্ত সময় পার করতে হত। যার কারণে চর্চাটা ঠিক সেভাবে করা হত না। হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে গানের চর্চা ধরে রাখার জন্য এ আয়োজনটি অনেক সাহায্য করবে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়রদের সাথে আড্ডা দেওয়া হয় লাইভ স্ট্রিমিংয়ে। সর্বোপরি হোম কোয়ারেন্টাইনের একঘেয়েমি দূর করে করোনা মোকাবিলায় কিছু করতে পারাটাই বড় স্বার্থকতা হিসেবে দেখছেন এর আয়োজকরা।
এমন আয়োজনের বিষয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের এই মুহূর্তে গান আড্ডা একদিকে যেমন চলমান একঘেয়েমি জীবন থেকে দেবে মুক্তি, পাশাপাশি এ থেকে সংগৃহীত অর্থ হাসি ফোটাবে বিপাকে পড়া ক্যাম্পাসবাসীর।