১৫ মার্চ ২০২০, ২৩:৩৬

করোনাভাইরাস: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে

  © লোগো

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবির প্রেক্ষিতে আজ সোমবার জরুরি সভা ডেকেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সকাল ১০টায় পুরাতন সিনেট ভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় ডীন, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, চীফ মেডিকেল অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। সভা থেকে ক্যাম্পাস সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

দেশে ৫ জন করোনাভাইরাস রোগী সনাক্তের পর শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। আবার অনেক ক্যাম্পাসের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। তাছাড়া অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশে ৫ জন করোনাভাইরাস রোগী সনাক্তের পর  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধের সম্মিলিত জনমন সৃষ্টি হয়েছে। তাই শিগগির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হোক। 

তবে, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কারণ এখনও ঘটেনি। যদি এমন অবস্থা দেখা যায় যে, এ রোগ সহনীয় পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাচ্ছে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত না দিলেও আজ সোমবার (১৬ মার্চ) বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত জানাবে শিক্ষক সমিতি। বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি নূরে আলম আবদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক শামীমা বেগম। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের বিষয়ে শিক্ষকদের অবস্থান জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি নূরে আলম আবদুল্লাহ বলেন, আমি এখনই কোনো মন্তব্য করবো না, আমরা কাল মিটিং করবো, তারপর বক্তব্য দিবো।

এর আগে রবিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রবিবার বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধিদের এক সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌসিব মাহমুদ সোহান বলেন, আমরা মনে করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাস ছড়ালে খুব ভয়াবহ অবস্থা হবে। প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ উত্তম। একারণে সকল সিআরকে নিয়ে আমরা বসছিলাম আজ। সকল সিআরের সম্মতিক্রমে আমরা আগামীকাল সোমাবার হতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ঢাবি ভিসিকে শিক্ষক সমিতির চিঠি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাস আতঙ্কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে চুয়েটের সব ডিপার্টমেন্টের ক্লাস প্রতিনিধিরা শনিবার দিকে মিটিং করে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাস আতঙ্কে সকল ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগগুলোর মধ্যে ইতিহাস, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ছাড়াও রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি বিভাগ। রবিবার (১৫ মার্চ) পৃথক সময়ে বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীরা সব ধরণের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়। তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখবেন না বলে জানিয়েছেন উল্লিখিত বিভাগীয় সভাপতিরা। এর আগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার আবেদন নিয়ে বিভাগীয় সভাপতির নিকট যায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সভাপতিরা শিক্ষার্থীদের আবেদনে সাড়া না দেওয়ার কারণে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস আতঙ্কে সকল ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। করোনার প্রাদুর্ভাব স্বাভাবিক অবস্থায় না আসা পর্যন্ত এই ঘোষণা কার্যকর থাকবে বলে জানান তারা। রবিবার বিকাল ৫টায় শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেয়। এর আগে বেলা ২টায় সকল বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়। সেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাস আতঙ্কে ক্যাম্পাস বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়র (কুবি) শিক্ষার্থীরা। হল এবং বিভিন্ন বিভাগে বেশ কয়েকজন জ্বরে আক্রান্তের খবরে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার রাতে কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি থেকে নির্দেশক না পেলে ক্যাম্পাস বন্ধ করা হবে। এদিকে করোনা আতঙ্কে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৯ম, ১১তম, এবং ১২তম ব্যাচ, আইসিটি বিভাগের ৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম, ১৩তম, ১৪ তম ব্যাচ, আইন ১২তম ব্যাচ, বাংলা ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আজ সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরণের অনুষ্ঠান সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ক্লাস পরীক্ষা চালু রয়েছে এখনো। তবে ক্যাম্পাস বন্ধ করা হবে কিনা এসব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে এনিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। কেউ নিজ টাইমলাইনে বা ক্যাম্পাসের ইন্টারন্যাল গ্রুপগুলোতে ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি-অভিমত তুলে ধরেছে। কেউবা সেশন জটের আশঙ্কা প্রকাশ করে ক্যাম্পাস চালু রাখার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই করোনার আক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা করার দাবি তোলেন তারা। এ নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইবির শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পেতে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণার দাবি করছি।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্যে হলে ক্যাম্পাস রাখতে হবে। যাতে করে বিশ্বব্যাপী মহামারির প্রাদুর্ভাবটা অন্তত কাটিয়ে উঠা যায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরাও। ফলে ক্লাসে যাচ্ছেন না অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। গত দুয়েকদিন বুয়েটের একাডেমিক ভবনগুলো, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, অধিকাংশ বিভাগের ক্লাস-রুম ও গ্রন্থাগার ছিল ফাঁকা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করেছে সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ-নিটার শিক্ষার্থীরা। এ ভাইরাসের পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেনা বলে সিদ্ধান্ত নেয়। নিটার প্রশাসন জানান, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে চলমান সকল সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ক্লাস স্থগিত ব্যাপারে নিটার প্রশাসন কিছু জানায়নি।