১৫ মার্চ ২০২০, ১২:২৪

করোনা আতঙ্কে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবি

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে গোটা বিশ্ব ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা প্রভাবে আতঙ্ক বিরাজ করছে সারা বিশ্বে। এই ভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই করোনার আক্রমন থেকে মুক্তি পেতে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা করার দাবি তোলেন তারা।

এ করোনা ভাইরাস  নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইবির শিক্ষার্থীরা। বাংলা বিভাগের সাখাওয়াত নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুক স্টাটাসে বলেন, আমি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পেতে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণার দাবি করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বাতাসের চেয়ে দ্রুততম সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কারণ সবার জানা। আক্রান্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা সেটি আরও বেশি ভয়াবহ হবে। তখন অনেকেই করোনা ভাইরাস বহন করে বাড়িতে যাবে। বিষয়টি এখনই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার সময় বলে আমি মনে করি।

আরেক শিক্ষার্থী মুম্মা আহসান বলেন, করোনা ভাইরাস ঝড়ের গতিতে ছড়াচ্ছে গোটা দেশে৷ আমরা হলে গড়ে প্রতিটি রুমে ৪-৬ জন এবং গণরুমে ২৫ থেকে ৩০ জন করে অবস্থান করি। হলের ডাইনিং এ খাবার খাই ১৫০ থেকে ২০০ জন করে। বাসে গাদাগাদি করে আসা-যাওয়া করে অনেকে। ক্লাসে উপস্থিত থাকি প্রায় সবাই। যদি কারও করোনা হয় এবং এটি  শনাক্ত করতে ব্যার্থ হলে এক ভয়বহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ইমারন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অত্যন্ত আমাদের পিতা-মাতার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবি করছি।

এদিকে করোনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কতৃপক্ষ ১২ মার্চ থেকে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত টিএএসসিসিতে সকল ধরনের সকল ধরণের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ক্লাস পরীক্ষা অব্যহত আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ  বলেন, একটা জিনিস স্পষ্ট যে করোনা ভাইরাসে আমরা সহ শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কে রয়েছে। আমি বিষয়টি উপাচার্যকে অবগত করেছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিন্ধান্ত নেওয়া যায় না। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে চীপ মেডিকেল অফিসার ড. নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা একটি বৈশ্বিক মহামারিতে রুপ নিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে এ ভাইরাস মোকাবেলায় কোন এন্টিবায়োটিক কাজ করছে না। এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিষেধক নেই। ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিকল্পে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অন্যদিকে মুঠোফোনে উপাচার্যের সাথে  যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।