ব্যতিক্রম উদ্যোগে পাঠচক্র-ক্যারিয়ার আড্ডা চালু নোয়াখালীতে
স্বপ্ন ও ইচ্ছাশক্তি প্রতিটা মানুষের মাঝে বিরাজমান। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে গেলে চারপাশ থেকে আশে নানা প্রতিকূলতা। এই প্রতিকূলতাকে ডিঙিয়েই নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে নোয়াখালী মাইজদীতে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগে "পাঠক পরিবার" পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষা এবং সঠিক ক্যারিয়ার গঠন বিস্তারে এই মহান উদ্যোগ নিয়েছেন নোয়াখালী সরকারি কলেজ এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মনির উদ্দিন আহমেদ এবং তাঁর বন্ধু নয়ন বিন বাহার। নিজস্ব অর্থায়নে বই পড়ার স্বপ্নকে ধারণ করে ইতিমধ্যে বন্ধু নয়ন বিন বাহারের কম্পিউটার সেন্টারে গড়ে তুলেছেন ‘ পাঠক পরিবার পাঠাগারটি’।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নোয়াখালীর মাইজদী এ্যাপোলো হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে বন্ধুর টার্গেট কম্পিউটার্স সেন্টারে স্থান পেয়েছে পাঠাগারের অসংখ্য বই। ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন সময় অনেক স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন থেকেই তৈরি হয় বই পড়ার অভ্যাস। বই পড়ার অভ্যাস থেকে স্বপ্ন দেখেন পাঠাগার গড়ে তোলার। তাঁদের সংগ্রহে থাকা অল্প সংখ্যক বই দিয়েই শুরু করেন ‘পাঠক পরিবার পাঠাগার’। ধীরে ধীরে পাঠাগারের বই এর সংখ্যা আরও বাড়বে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার আগ্রহ গড়ে তুলতে এই ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। এই মহান উদ্যোগে বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতি সপ্তাহে (শুক্রবার) বই পড়া এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক সঠিক গাইড লাইন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেন মনির উদ্দিন আহমেদ। শুধু তাই নয়, কোন শিক্ষার্থী চাইলে এই পাঠাগার থেকে বই নিতে পারবে। আবার সপ্তাহান্তে পড়া শেষে বইগুলো ফেরত দিয়ে নতুন বই নিতে পারবে।
এ বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জানতে চাইলে মনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাজে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে অর্থের অভাবে লেখাপড়াই করতে পারে না, সেখানে এসব বই পড়া অনেক দূরের বিষয়। এই পাঠাগারের মাধ্যমে দরিদ্র ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বই পড়ার অভ্যাস এবং জ্ঞানের আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়াই আমার ইচ্ছা। আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে সরকারী চাকুরীর পিছনে সময় ব্যয় করে হতাশাগ্রস্ত হয়। এর কারন হচ্ছে ক্যারিয়ার গাইড লাইনের অভাব। আমরা এই পাঠাগারের উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার বিকাল ৪ টা থেকে ক্যারিয়ার আড্ডা বিষয়ক সেমিনার করে থাকি। এতে করে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার আগেই একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বই এবং চাকরি সংক্রান্ত নানান বিষয় সম্পর্কে জানবে। তাই আমি আশা করবো আমার এই উদ্যোগে সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে নিজেদের জীবনে সঠিক ক্যারিয়ার গঠন করে নিজের এবং দেশের উন্নতি করবে। সামর্থ্যবানদের সকলেই সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় এই ধরনের পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেন তিনি ।
তিনি আরও জানান, নোয়াখালীর প্রান্তিক এলাকাগুলোতে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বিভিন্ন বই পাওয়া যায়না বললেই চলে। এসব গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগারের সংগৃহীত বই বাড়তি জ্ঞানের আলো ছড়াবে।
এই নিয়ে নয়ন বিন বাহার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান- নোয়াখালীতে টার্গেট কম্পিউটার্স প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম কুড়িয়ে আসছে। এখানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ছাড়াও এখানকার ছাত্রদের ক্যারিয়ার গঠনে নানা ধরণের দিকনির্দেশনা দেয়া হত।এরই ধারাবাহিকতায় আমরা তাদেরকে বই পড়ার সুযোগ এবং নিয়মিত ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেয়ার লক্ষ্যে পাঠক পরিবার এবং ক্যারিয়ার আড্ডা চালু করি। এধরণের পাঠাগার এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক আড্ডা একজন শিক্ষার্থীর জন্য কল্যান বয়ে আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বলেন পাঠাগার বা গ্রন্থাগার হচ্ছে বইয়ের ভাণ্ডার। যেখানে প্রচুর বই সংরক্ষণে থাকে। বই পড়ার আগ্রহ থাকলেও আমাদের অনেকের পক্ষে বই কিনে পড়া সম্ভব ছিল না। ইতিপূর্বে আমাদের নোয়াখালীতে এমন কোন পাঠাগার ছিলনা। পাঠাগার হওয়াতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। যেখানে অবসর সময়ে আমরা পাঠাগারে বসে বিভিন্ন বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারি। এবং ক্যারিয়ার গঠন বিভিন্ন গাইড লাইন পেয়ে থাকি।