০৮ মার্চ ২০২০, ১৩:০৫

ছাত্র উপদেষ্টাসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ পদে নারী

  © টিডিসি ফটো

যোগ্যতা প্রমাণ করেই পেয়েছেন দায়িত্ব। তারপরও দেখতে হয়, মানতে হয় সহকর্মীর নেতিবাচক আচরণ। দক্ষতা প্রমাণে দিতে হয় পুরুষের তুলনায় দ্বিগুন শ্রম। বাঁধা বিপত্তি আর চ্যালেঞ্জ পদে পদে। তারপরও হতাশ নন তাঁরা। বিশ্বাস করেন যোগ্যতা আর দক্ষতার মধ্য দিয়েই আনতে হবে পরিবর্তন। চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে প্রশাসন, বিভাগীয় সভাপতি, প্রাধ্যক্ষসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৭ পদে দায়িত্বপালন করছেন নারী শিক্ষকরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে—

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে আছেন দু’জন। তার মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টা ড. লায়লা আরজুমান বানু ও লিগ্যাল সেলের প্রশাসক ড. শাহীন জোহরা। অন্যদিকে একমাত্র নারী ডীন কৃষি অনুষদের ড. সালেহা জেসমিন। এছাড়া যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলের নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রেজিনা লাজ।

এদিকে সাতটি বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন নারী শিক্ষকরা। কলা অনুষদভুক্ত দর্শন বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক শামীমা আক্তার। পুরুষ সহকর্মীদের সাথে কতটুকু চ্যালেঞ্জ নিয়ে পথ চলতে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক শামীমা বলেন, সেরকম কোন চ্যালেঞ্জ আমাকে মোকাবেলা করতে হয় না বরং তাদের দিক থেকে সাপোর্টই পাই। তবে এখনো পুরুষ আধিপত্য আছে। কিন্তু আমি সেটাকে বেশি হাইলাইট করতে চাই না। যেহেতু সিনিয়র প্রফেসর সে হিসেবে সবার কাছ থেকে সম্মান পান বলে জানান তিনি।

এছাড়া এই অনুষদে সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জুয়েলী বিশ্বাস দায়িত্ব পালন করছেন।এদিকে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক তানজিমা ইয়াসমিন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সালমা বানু। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক সাজেদা আক্তার।

কৃষি অনুষদে চারটি বিভাগের দুইটির সভাপতি নারী। এগ্রোনমি এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ফাহমিদা চৌধুরী এবং ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ফৌজিয়া এদিব ফ্লোরা।

এই বিভাগটিতে অধ্যাপক ফ্লোরা ছাড়া আর মাত্র তিনজন নারী সহকর্মী আছেন। সহকর্মীদের সাথে কোন চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব পালন করতে হয় জানতে চাইলে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, আমি যেখানেই কাজ করি না কেন সেখানে তো আমি নারী হিসেবেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাইনি। বিভাগে আমরা সহকর্মী হিসেবে স্বতস্ফূর্তভাবে কাজ করি। এখানে জেন্ডার ইস্যুটা কাজ করে না। সিদ্ধান্ত নেয়ার জায়গাগুলোতে আমরা যদি আন্তরিক থাকি, তাহলে সেখানে কিন্তু জেন্ডার ইস্যু আসে না। নারী হিসেবে সেখানে আমাকে আলাদা করে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় না। কাজগুলো করিয়ে নিতে কিছু টেকনিক আছে, কিছু মধুর ভাষা আছে। এক্ষেত্রে আমি কিছুটা ট্যাকনিক্যাল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু। তিনি বলেন তাঁর নিজ বিভাগেই ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম নারী শিক্ষক তিনি।

আরজুমান বানু বলেন, পুুরুষ শাসিত সমাজে নারী হিসেবে নিজেকে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে নানা বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করতে হয়। সহকর্মীরা বেশির ভাগই চান না নারী হিসেবে বড় দায়িত্বগুলো পালন করি আমরা। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ থাকে পুরুষরা যত সহজে মুভ করতে পারেন। নারীরা করতে পারেন না। এই জন্য দ্বিগুণ শ্রম দেওয়া লাগে সময়ে সময়ে। সেইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই টিকে থাকতে হবে।

এদিকে ছয়টি ছাত্রী হলের দায়িত্বে আছেন ৬ জন নারী প্রধ্যক্ষ। এর মধ্যে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রধ্যক্ষ অধ্যাপক শর্মিষ্ঠা রায়, মুন্নুজান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সাবিনা ইয়াসমিন, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোবাররা সিদ্দিকা, তাপসী রাবেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা সুলতানা, রহমাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রুকসানা বেগম এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবা সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬৭ বছর পার হলেও কোনো নারী উপাচার্য বা উপ-উপাচার্য নিয়োগ পায়নি। এই নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন নারী শিক্ষকরা। আগামীতে এসব পদে নারীরা আসবেন, এ অপেক্ষার প্রহর গুনছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়!