ছাত্রলীগ পরিচয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রকে মেরে রক্তাক্ত
ছাত্রলীগ পরিচয়ে রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মাজহারুল শেখকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। পরে স্থানীয় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের ‘বিদ্রোহী’ বাসে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জানান, বহিরাগতরা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এসময় তারা ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনে দেন।
মাজহারুল জানান, প্রতিদিন আমি কলেজের বিদ্রোহী বাসে যাতায়াত করি। এই বাসে ইন্টারমিডিয়েট ও অনার্সের শিক্ষার্থীদের এক সাথে যাওয়া-আসা করতে হয়। ইন্টারমিডিয়েটের কয়েকজন ছেলে বাসে সিগারেট খায়, বড়দের সম্মান করে না, মেয়েদের সাথে খারাপ আচরণ করে-এসব বিষয় নিয়ে কয়েকদিন আগে ইন্টারমিডিয়েটের কিছু ছাত্রের সাথে কথা কাটাকাটি হয়।
তিনি বলেন, আজ আমি বাসে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে আমায় বাস থেকে নামতে বলে। আমি তাদের কাউকে চিনি না। পরিচয় জানতে চাইলে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ে, ছাত্রলীগ পরিচয়ে আমাকে মারধর করে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিচয় জমা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কলেজে ফেরার সময় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ঐ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে কলেজ প্রশাসন।
কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, এর আগেও ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কলেজে সিনিয়র জুনিয়র মারামারি হয়েছে; যার তদন্ত এখনও চলছে। এরপর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরেন এক শিক্ষক; তার তদন্তও চলছে।
আবার গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে অগ্নিবীণা বাসে আরেকটি ঘটনা ঘটে, তারও তদন্ত চলছে। তদন্ত আর তদন্ত। নানা ঘটনা ঘটে শুধু তদন্ত হয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় না। যার ফলে প্রতিনিয়ত কলেজে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে মারামারি লেগেই আছে। দ্রুত তদন্ত করে এসব ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানায় কলেজের শিক্ষার্থীরা।