০৩ মার্চ ২০২০, ১৫:২৮

উপাচার্যের কারণে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রশ্নবিদ্ধ!

  © টিডিসি ফটো

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর ক্যাম্পাসে উপস্থিতি ও তার সাথে সাক্ষাতের দাবিতে উপাচার্য দফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ভিসিবিরোধী শিক্ষকদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা থেকে এই কর্মসূচী পালন করছেন তারা।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহবায়ক প্রফেসর ড. মতিউর রহমান বলেন, ‘ভিসির অনেকগুলো অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অনুপস্থিতি অন্যতম। একজন ভিসি কি পরিমাণ অনুপস্থিত থাকলে তাকে উপস্থিত রাখার জন্য একটি হাজিরা বোর্ড স্থাপনসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হয়। তাকে স্মারকলিপি দিতে না পেয়ে সেটি ব্যানার বানিয়ে ঝুলিয়ে দিতে হয়। আমরা চাই ভিসি নিয়মিত ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পাস পরিচালনা করুক।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনীম হুমায়দা বলেন, ভিসি ক্যাম্পাসে না থাকা মানে দুজন ডিন, একজন বিভাগীয় প্রধান, ট্রেজারার, ইনস্টিটিউটের পরিচালক না থাকা। অর্থাৎ এসব পদ তিনি একাই দখল করে আছেন।

আবার ভিসি না থাকার মানে রেজিস্ট্রার এবং প্রকল্প পরিচালক না থাকা। কারণ ভিসি যেভাবে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকেন, তারা দুজনও একই কায়দায় অনুপস্থিত থাকছেন।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, উপাচার্য নিয়ম ভেঙ্গে দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন। উপস্থিত না থেকেও প্রায় পঞ্চাশটির মতো কোর্সের ক্লাসের দায়িত্ব নেন তিনি। এভাবে কোন ক্লাস ছাড়াই সেই কোর্সগুলো শেষ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাহলে শিক্ষার্থীদের কাছে আসলে কোন বার্তাটা পৌঁছায়? তিনি ক্লাস না নিয়েও এই কোর্সগুলোর টাকা নিচ্ছেন। ক্লাস আর পরীক্ষা না নিয়েও কিভাবে এই টাকা নেওয়া যায় এ বিষয়টা আমরা তার (উপাচার্য) কাছে জানতে চাই। ক্লাস ছাড়া যারা এই কোর্সগুলো শেষ করেছে তারা আসলে কি শিখেছে? তাদের তো সার্টিফিকেটই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কথা। উপাচার্য একাই কোষাধ্যক্ষ, রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক, কোন কোন বিভাগের প্রধান, ডিনের দায়িত্ব সহ আরো অনেক পদ তিনি দখল করে আছেন। যখন তিনি উপস্থিত থাকছেন না তখন এজায়গাগুলোর সকল কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। আমরা তার সাথে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয় আলোচনা করবো বলেই আজকে আমরা অবস্থান কর্মসূচী পালন করছি।

অবস্থান কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. বিজন মোহন চাকী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম, নীল দলের সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষ, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

উপাচার্য ক্যাম্পাসে না থাকাই তার একান্ত সচিব (পিএস) আমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘উপাচার্য স্যার ঢাকায় আছেন। আজ মঙ্গলবার বিকালে তিনি ঢাকাস্থ লিয়াজু অফিসে বোর্ড করবেন।’ ক্যাম্পাসে আসবেন কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, বোর্ড শেষ করে আসতেও পারেন। তবে এ বিষয়ে উপাচার্যের সচীব পরিস্কার না।