২০১৯ সালের নোবিপ্রবির আলোচিত ঘটনা
চলতি বছরের শেষ মাস পার হচ্ছে, বিদায়ের দারপ্রান্তে ২০১৯ সাল। ৩ দিন পরেই বিদায় নেবে চলতি বছর। নতুন বছরের সময় গননা শুরু হবে। অতীতের ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী নিয়েই তৈরী হয় ইতিহাস। ২০১৯ এ ঘটে যাওয়া নোবিপ্রবির এমন কিছু ঘটনা রয়েছে। যা নোবিপ্রবির ইতিহাসে স্থান পাওয়ার মত। বছরজুড়ে ঘটে যাওয়া নোবিপ্রবির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ নিয়েই এই প্রতিবেদন।
বছরের শুরুতে নানা উৎসব ও আমেজের মধ্য দিয়ে নোবিপ্রবির ২য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। ৫ম হতে ৯ম ব্যাচ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন দেয়া হয়। আইটি ও আই আই এস হতে ডিগ্রি প্রাপ্ত সকলের সমাবর্তন প্রদান করা হয় এই অনুষ্ঠানে। উৎসবমুখর পরিবেশে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষার্থী ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ ভৌমিক এবং আফসানা কবির দিপ্তি, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমিতা রানী সাহা এবং নিক্কন সরকার, কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিয়া খানকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক এবং ৫ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শামসুল আলম পাটোয়ারী, কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহিদুল ইসলাম, সুমিতা রাণী সাহা এবং নিক্কন সরকারকে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
এদিকে ২য় মেয়াদে থাকার নানা গুন্জন উঠলেও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে বিদায় নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান। নোবিপ্রবিতে ৫ম উপাচার্য হিসেবে গত জুন মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিদারুল আলম যোগদান করেন। বিদায়ের আগে ২য় মেয়াদে সাবেক উপাচার্যকে রাখার দাবীতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। ছাত্রলীগকে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে এ মানববন্ধন করানোর অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৪ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই বছরে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ঝুলিতে ব্যাপক অর্জন জমা হয়েছে । এসব অর্জনের মধ্যে রয়েছে নোবিপ্রবির তিন শিক্ষার্থী ৮ম ব্যাচের তৌশিক লাহিড়ী, নাজমুন নাহার ও নবম ব্যাচের মো. মহসিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত একটি পোস্টার প্রেজেন্টেশনে ৩য়, ৭ম ও ৫ম স্থান লাভ করেন।গবেষণার জন্য তাদর বার্ষিক ১২,০০০ ইউএস ডলার প্রদান করা হবে। এবং অনুষদে সেরা হওয়ায় নোবিপ্রবির চার শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক '১৯ লাভ করেন। নিজ অনুষদে সেরা হয়ে স্বর্ণপদক পাওয়া চার শিক্ষার্থী হলেন- আইসিই বিভাগের মো. মাহবুবুল আলম, কৃষি বিভাগের সাবিয়া খান, ডিবিএ বিভাগের আবু সাঈদ জাবেদ এবং অর্থনীতি বিভাগের হাবিবা সুলতানা।
এছাড়াও গবেষণায় এবং ফটোগ্রাফিতে যথাক্রমে আহমেদ কাওছার ও আশরাফুল ইসলাম শিমুল নামের দুই শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরষ্কার জিতে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এবং বিএনসিসি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প ২০১৯ এ নোবিপ্রবি বিএনসিসির ক্যাডেটবৃন্দ ভিন্ন কয়েকটি শ্রেনীতে বেশ কয়েকটি পুরষ্কার জিতে সফলতা অর্জন করেন। এবং নোবিপ্রবি অর্থনীতি বিভাগের হৃদয় মজুমদার দেশব্যাপী আয়োজিত ‘বাজেট অলিম্পিয়াড-২০১৯’ এর ফাইনাল রাউন্ডে ২য় রানার্সআপ হয়ে পুরষ্কার জিতেন।
নোবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার সময় আতিথেয়তায় দেশজুড়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে নোয়াখালীবাসী। অর্ধ- লক্ষাধিক লোকের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা সহ ভর্তিচ্ছুদের আসার পর থেকে যাওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের সহযোগিতা করে নোয়াখালীর মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে স্থানীয় সাংসদ, পৌর মেয়র এবং জেলার সর্বপর্যায়ের মানুষ একযোগে এসব সহযোগিতা করে।
ফিরে দেখা ২০১৯ এ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একমাত্র ছাত্র হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নোবিপ্রবির ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে উল্লেখ থাকবে। দুই দিনের এই হামলায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা একমাত্র ছাত্র হলটি ভেঙ্গে লন্ডভন্ড করে দেয়। প্রশাসনের দাবী এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.ফিরোজ হোসেন চোখে গুরুতরভাবে আহত হন। এতে ছাত্র-শিক্ষক মিলে মোট দশ জনেরও বেশি আহত হয়।
২য় দিনের মত তান্ডব চালানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হল ভ্যাকেন্ট করে ছাত্রদের বাহির করে দেয়। এবং হলে তল্লাশি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের রুম থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এই হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৬ জনকে সাময়িক বহিষ্কারসহ মোট ৩৯ জনকে শাস্তি প্রদান করা হয়।
বছরের শেষদিকে হলে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠে আলোচনায় আসে নোবিপ্রবির খাদিজা হল। পরবর্তীতে ধূমপানের কথা উল্লেখ করে হল প্রশাসন ওই তিন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করে।