পুরো দেশকে ডাস্টবিন বানাই ফেলছি: রাষ্ট্রপতি
আমরা বিদেশে গেলে রাস্তার মধ্যে একটু থুতু ফেলার সাহস পর্যন্ত পাই না। পুলিশের ভয়ে গিলে ফেলি। অথচ নিজ দেশকে ডাস্টবিন বানাই ফেলছি। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। এই সবই সচেতনতার অভাবে হচ্ছে। তাই মানুষকে সচেতন করার সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও আচার্য আবদুুল হামিদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা যাতে আন্তর্জাতিক মানের এবং জীবনমুখী ও মানবকল্যাণে নিবেদিত হয় সেদিকে নজর দেয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আচার্য।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সফল গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত জ্ঞান মানবজাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। চিকিৎসাসহ জীবন সহজ করতে পারে। গবেষণার ফল যাতে লাইব্রেরিতে বন্দি না থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য জাতিকে যেমন অনুপ্রাণিত করে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রত্যাশিত ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষক যখন তার মহান আদর্শ থেকে দূরে চলে যান, তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আগে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ‘কালজয়ী মুজিব’ উদ্বোধন করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ সমাবর্তন উপলক্ষে গোটা ক্যাম্পাস অপরূপ সৌন্দর্যে সাজানো হয়েছে। সমাবর্তনে আগত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদাচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, হলসমূহ, উপাচার্যের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামো অলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে ও নগরীর দর্শনীয় স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পোর্টেট ছবি শোভা পাচ্ছে।
পাঁচ হাজার অতিথি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিকমানের বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এবারই এই প্রথম খুলনায় এ ধরনের আধুনিক প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের রাস্তায় আল্পনা ও অন্যান্য সাজসজ্জা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় এবারের সমাবর্তনে ৪ হাজার ৪৭৮ জনকে স্নাতক,২ হাজার ৫৩০ জনকে স্নাতকোত্তর,৫ জনকে এমফিল ও ৮জনকে পিএইচডি এবং ১৭ জনকে পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের (অনুষদ)পরীক্ষার ফলাফলে অসাধারণ কৃত্বিতের জন্য ২৩ জনকে গ্লোড মেডেল দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।