২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫

লাশ কাটা ঘরের পার্শ্বে পরিত্যক্ত ভবনে থাকছে ছাত্রীরা

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের মর্গ ও মৃতদেহ সংরক্ষণের পুরাতন ভবন (লাশ কাটা ঘর) পার্শ্বেই সাত বছর আগের পরিত্যক্ত কিংবা মরচুয়ারি নির্মিত ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমের ভবনে ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন ২৫ জন ছাত্রী।

২০১১-১২ সেশনে কলেজে বিডিএস বা ডেন্টাল অনুষদে নির্ধারিত ৫০টি আসনের অনুকূলে ভর্তি হতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। একই বছর থেকে এমবিবিএস কোর্সেও ছাত্রীদের ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে কয়েকটি সেশনে এসব শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ায় আবাসন সংকট প্রকট হয়।

কলেজ সূত্র জানা গেছে, এ কলেজে এমবিবিএস ও ডেন্টাল অনুষদ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর অনুকূলে আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ৮৬৮ জনের। এছাড়াও আবাসিক ভবনগুলোর মধ্যে ছাত্রদের তিনটি ও ছাত্রীদের তিনটি হলের ভবনগুলো অর্ধশত বছর পার হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম ও মরদেহ সংরক্ষণের জন্য দোতলা মরচুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। শুরুর দিকে কয়েকদিন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ক্লাস হলেও নানান জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া নির্জন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের অভিযোগ, নতুন কিংবা পুরাতন হোস্টেল যেখানেই ডেন্টাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা হোক না কেন, সবচেয়ে নিম্নমানের কক্ষটা তাদের জন্য বরাদ্দ। এমবিবিএস শিক্ষার্থীরা ভালোমানের ব্যবস্থাপনায় থাকবে এবং ডেন্টাল কোর্সের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাবে; এটাই নিয়ম হয়ে গেছে বলে জানান মরচুয়ারি ভবনে থাকা ছাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে পাশাপাশি দুটি ভবনের একতলা ভবনটিতে বর্তমানে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে এবং অপরটিতে ছাত্রীরা বসবাস করছে। মরচুয়ারি ক্যাম্পাসে প্রবেশে একটি গেট থাকলেও তাদের নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্জন এলাকা ও চারদিকে ঝোপজঙ্গল থাকায় সেখানে দিনেরবেলাতেই কেউ দাঁড়াতে ভয় পাবেন। সেখানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক নাইটগার্ড রফিক জানান, দিনেরবেলায় কেউ ডিউটি করে না।

মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল ক্লার্কের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর ছাত্রী হোস্টেলটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হলেও সেখানে ৩২০ জন ছাত্রী বসবাস করছে। এছাড়াও ২ নম্বর ছাত্র হোস্টেলটির ৩য় তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে গণপূর্তের হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তুজাম্মেল জানান।

ছাত্রী হোস্টেলের সেক্রেটারি জেবিন জাহান জানান, শুরুর দিকে এই মরচুয়ারিতে থাকতে ভয় করতো। কারণ পাশের মর্গ ভবনেই দিনের বেলা মরদেহ কাটাছেড়া করা হয়। সন্ধ্যার পর ভবনের সামনেও কেউ দাঁড়াতে চাইতো না। তবে স্বাভাবিক হোস্টেলের মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও এখন অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে নিবাসীরা।

ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডাঃ মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের আধুনিক এ একাডেমিক মরচুয়ারি ভবনটি ব্যবহারে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কেননা ফরেনসিক বিভাগে অধ্যয়নরত দুইটি ব্যাচে ৪০০ শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিকমানের ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় ময়নাতদন্তে অসুবিধা হচ্ছে।

আবাসন সংকটের কথা স্বীকার করে কলেজ অধ্যক্ষ ডাঃ সৈয়দ মাকসুমুল হক জানান, দিনে দিনে গোটা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আবাসন সংকট তীব্র হচ্ছে। আর এ কারণেই কয়েকবছর আগে ওই ছাত্রীদের মরদেহ কাটা ঘরে নয় ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দোতলা মরচুয়ারি ভবনে থাকতে বলা হয়। যেখানে আমাদের সরকারি স্টাফরা তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিতে নিয়োজিত রয়েছেন। তা-ছাড়াও খুব শিগগিরই একটি আট তলা ভবনের ছাত্রী হোস্টেলের কাজ সম্পন্ন হবে।