উপাচার্যের বাসার সামনে কনসার্ট আয়োজন
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১২টায় ফের বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় কনসার্ট করবে তারা।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হোটেল ও হলে পানি, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে জাবি ভিসি ইতিহাসের ন্যাক্ককজনক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে বাধ্যতামূলক ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশের পরে হল সংলগ্ন খাবারের দোকানগুলো বন্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে জাহাঙ্গীরগনর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত কোনাে শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এসে সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোন অফিস বা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করতে পারবে না। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বটতলার দোকানসহ হল সংলগ্ন সব দোকান বাধ্যতামূলক বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যারা টিকেট জটিলতায় ক্যাম্পাস ছাড়তে পারেননি সেসব শিক্ষার্থীদের বিকেল তিনটায় মধ্যে হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়।
এদিকে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে আন্দোলনকারীরা। দুপুর ৩টা পর্যন্ত পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা সংহতি সমাবেশ করে। দুপুরের খাবারের বিরতির পর উপাচার্যের বাস ভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে তারা।
এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে ও হামলা করে আন্দোলন থামানো যাবে না। উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আজও উপাচার্যকে তার বাস ভবনে অবরুদ্ধ করা হবে।
উল্লেখ্য, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ১১ দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল উপাচার্যের বাসভবন অবরোধের সময় বেলা ১২টার দিকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়। এ ঘটনার পরে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় উপাচার্য।