অযৌক্তিক দাবিতে পদত্যাগের ইচ্ছা নেই: জাবি ভিসি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ভর্তি পরীক্ষা ও ক্যাম্পাস আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য সাংবাদিকদের ভর্তি পরীক্ষা, উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও যৌন নিপীড়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র ব্যানারর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবির মধ্যে অন্যতম বিচারবিভাগীয় তদন্ত। এ সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের যে দায়-দায়িত্ব আমাকে ওরা দিয়েছে, সেটি অযৌক্তিক। আমি এটা চাইতেও পারিনা, করতেও পারি না। এটি সরকার অথবা বিচার বিভাগ চিন্তা করবে। শুধু এখানে আমাকে একটা চাপ সৃষ্টি করার অর্থই হচ্ছে একটা অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আমাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের জন্য আহ্বান করা। যেহেতু যুক্তি নেই, সেখানে পদত্যাগের ইচ্ছা আমি প্রকাশ করছি না।’
দুর্নীতির দায়ে উপাচার্যের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিচারিক প্রক্রিয়ায় তো আমি যেতে পারি না। আমি তাদেরকে বিশেষজ্ঞের মতামত জানিয়েছি। ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি। আমার পক্ষে তো এটিই করা অসম্ভব। আর মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে খবর যাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। যদি তারা মনে করে তদন্ত করা উচিত, তাহলে অবশ্যই তারা করবে। সেক্ষেত্রে আমার দিক থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব আমি করবো। আমাকে উন্মোচনের জন্য যতটুকু করার আমি করবো। এরচেয়ে বেশি কিছু তো আমি পারি না। কিন্তু তারা এক দফা দাবি পদত্যাগ চেয়ে বসে থাকলেন।জাহাঙ্গীরনগরে যে সংকট চলছে এইটা কেন হচ্ছে কী হচ্ছে সেটা জানা একান্ত প্রয়োজন। জাহাঙ্গীরনগরের সার্বিক সংকটাকে উন্মোচন করেন। কিন্তু সে প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের কোন সম্ভবনা নেই তাদের দাবি মানার'।
এতদিন পরে আমির হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত কিনা এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, “যারা সচেতন আমাদের সাথে রাজনীতি করেছেন, তারা চিন্তা করেছেন এটা। চিন্তা করারও কারণ আছে। সেটা হলো- ব্যানার হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন। তাহলে দুর্নীতি কি শুধু এক জায়গায়ই আটকে আছে? যে আমার অপজিশনে দাঁড়িয়ে আমার বিচার চায়, তারও যদি দুর্নীতির দায় থাকে, তাহলে আন্দোলন আসলেই দুর্নীতি বিরোধী কিনা তা আসলেই সন্দিহান হয়। তারা তো নিজেরাই দুর্নীতি লাগানো মানুষ।
আলোচনার আগের রাতে ১১জন বিশেষ শিক্ষক শিক্ষার্থীর ফোন বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে বলেন, “বিটিআরসি কি আমার কথায় উঠে বসে?
দুর্নীতির প্রসঙ্গটি উপাচার্যের ব্যক্তিগত বিষয় বলে উপ উপাচার্য আমির হোসেন এক বিবৃতি দেন। এমন বক্তব্যের বিষয়ে ভিসি বলেন, “তাহলে তিনি এতদিন কেন প্রোভিসি ছিলেন? এখনো বা আছেন কেন? উনারাই তো স্বইচ্ছায় চলে যাওয়া উচিত। উনি যখন যেেেনে গেছেন বুঝে গেছেন যে আমি দুর্নীতি করেছি এইটা আমাকেই ডিফেন্ড করতে হবে তাহলে ওই ভদ্রলোক কেন আমার পাশে বসেন?”
তদন্তের বিষয়ে ইউজিসি থেকে কোন চিঠি এসেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে," আমাদেরকে কোন চিঠি দেয়নি। তবে তারা চিঠি না দিয়ে তদন্ত করলেও করতে পারে।"
আমির হোসেনকে কেন উপ-উপাচার্য করে আনলেন এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, “কেন উনাকে এনেছিলাম সেই দুর্নীতির কথা কেন, মনে রাখি নাই। সেটা সম্ভবত পরবর্তীতে উনার যে রাজনৈতিক আচরণ ছিলো সেটাতে সমস্যা ছিলো না বলেই এনেছিলাম। দুর্নীতি করাটা তো ব্যক্তিগত। সরকারের যেমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে একটা থেকে আরেকটা অভিযোগ বের হচ্ছে সেরকম এখানেও বের হতে পারে। যারা নিজেরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তারা নিজেরাই দুর্নীতির সাথে জড়িত-একারণেই এ কথা বের হচ্ছে।
উপাচার্যের পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলনের কর্মসূচীর বিষয়ে বলেন, “আমরা উভয় পক্ষকেই বলবো যেটুকু সত্য সেটুকু একটু বাড়িয়ে একটু কমিয়ে বলেন। কিন্তু একেবারেই মিথ্যাটাকে এনে সেট করে বসাইয়া দিলেন সত্যের জায়গায় সেটা কিন্তু জাতি ক্ষমা করবে না।
যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্য বলেন,"অভিযোগ যেদিনই পেয়েছি সেদিনই এটা ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে দলমত নির্বিশে,ষে কোন ধরনের ছাড় পাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। অতীতেও এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।
এখন উপাচার্যকে ধাক্কা দেবার লোকের অভাব নেই। তার স্ত্রীও বলছে তার অভিযোগ আমালে নেয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ না দিলে, স্ব-নামে অভিযোগ না দিলে এটাকে আমরা টেককেয়ার করতে পারি না। সে মুখেমুখে এসে আমার বাসায়-অফিসে এসে বলেছে। আমি তখন বলেছি যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর বিষয় সেখানে লিখিত অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় একটা কেয়ার করবে। কিন্তু সফল হবে পারিবারিক আদালতে গেলে। আমিতো একটা সুপরামর্শ দিয়েছি। আমি যা পারবো না, পারিবারিক আদালত তাও পারবে।'
ভুক্তভোগীর আপত্তির মুখে সেলের প্রধানকে পদ থেকে সরানো হবে কিনা সে প্রসঙ্গে বলেন, “সেল পুনর্গঠন করেছি। তারা নজর রাখবেন। আহ্বায়ক পরিবর্তন করছি না। আহ্বায়ক আদতে কী আচরণ করেন তা দেখার জন্য ওখানেই অনেকগুলো চোখ থাকবে। পরিবর্তন চাইলে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে"।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ শেখ মোহাঃ মঞ্জুরুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ উল হাসান সহ প্রমুখ শিক্ষকবৃন্দ।