০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৪২

জাবি উন্নয়ন প্রকল্প: দুর্নীতিমুক্ত নাকি যুক্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জন্য একনেকে অনুমোদিত অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কিত অপরিকল্পনা ও দুর্নীতির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপাচার্য-পন্থী শিক্ষকদের গ্রুপ ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’।

রবিবার দুপুর তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য-পন্থী শিক্ষকদের এই গ্রুপটি নিজেদেরকে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তাব্যক্তি দাবি করে বলেন এই মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত সু-পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং আইন ও বিচার বিভাগের ডীন, শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট এবং টিএসসির পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনটি বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করে বলেন, প্রথমত এই অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের যোগ্য নেতৃত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তিন বছরের বিরামহীন প্রচেষ্টার ফল। দ্বিতীয়ত, একনেক কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা ও ‘গণ-রুমে’ অবস্থানরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সংকটের অবসানের জন্য প্রশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতি দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তৃতীয়ত, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থ এখনো সরকারের কোষাগারেই রয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আজ পর্যন্ত বিল পরিশোধ করা হয়নি। সুতরাং দুর্নীতির অভিযোগ মনগড়া, কল্পিত, মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

 

এসময় সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষক নেতারা বলেন ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

অন্যদিকে একই দিনে দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীদের নতুন প্লাটফর্ম ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’। এসময় লিখিত বক্তব্যে প্রকল্পকে অপরিকল্পিত ও দুর্নীতিযুক্ত আখ্যায়িত করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনকে প্রশাসন নির্মাণ কাজকে বিলম্বিত অথবা বন্ধ করার অপকৌশল হিসেবে উল্লেখ করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এছাড়া অপরিকল্পনার ব্যাপারে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় মহাপরিকল্পনায় অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করা হয়। ২ কোটি টাকা দুর্নীতির ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয় যে, স্বয়ং উপাচার্য এই লুটপাটের সাথে যুক্ত। সুতরাং এই আন্দোলন মনে করে দুর্নীতি অভিযোগের সত্যাসত্য নির্ণয়ের জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্তের জরুরত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে একটি গানের মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন পূর্বক বটতলায় গিয়ে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত আন্দোলনকারীদের দেওয়া পুর্বউল্লেখিত তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেওয়া আল্টিমেটামের সময় শেষ হয়েছে। ফলে গানের মিছিল শেষে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণা দেয় বিক্ষুব্ধরা। মিছিলে ‘ও আলোর পথযাত্রী’, ‘মুক্তিরও মুন্দিরও সোপানও তলে’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’, ‘মাগো ভাবনা কেনো’ ইত্যাদি গান গাওয়া হয়।

পরস্পর বিরোধী পৃথক পৃথক এদুটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে প্রশাসন সমর্থক শিক্ষকদের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সম্পাদক অধ্যাপক বাশির আহমেদ, অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, অধ্যাপক হানিফ আলী, অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক নীলাঞ্জন কুমার সাহা প্রমুখ।

অন্যদিকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক রায়হান রাইন, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দিদার মুহাম্মাদ, ছাত্র ফ্রন্টের (মাক্সবাদী) সভাপতি মাহথির মুহাম্মাদ প্রমুখ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান।