২৩ জুলাই ২০১৯, ২০:৫১

ডিটারজেন্টে ক্যান্সারের উপাদান: জাবির গবেষণা

বাজারে প্রচলিত সকল ব্রান্ডের ডিটারজেন্টের মধ্যে ‘ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং’ নামক একটি ক্ষতিকর পদার্থের অতিমাত্রায় উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. নাহিন মোস্তফা নিলয়ের এক গবেষণায় তা উঠে এসছে। নাহিনের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক।

ডিটারজেন্টের মধ্যে ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং এজেন্ট এর প্রবলতা স্পেক্ট্রোফটোমিটার ও থ্রি ডি এক্সাইটেশন এমিশন ম্যাট্রিক্সের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়েছে। গবেষণা থেকে আরো জানা যায়, এ ক্ষতিকর পদার্থটির উপস্থিতি মানবদেহে এলার্জি, চর্মরোগ, জীনগত পরিবর্তন, কিডনি বিকল এবং অতিবেগুনি রশ্মির সাথে বিক্রিয়া করে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থে রূপান্তরিত হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ষতিকর এজেন্টটি চূড়ান্ত পানি শোধনাগারেও সম্পূর্নরূপে অশোধনযোগ্য। আর পদার্থটির অস্তিত্ব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকের পানিতে পাওয়া গিয়েছে। আরো চাঞ্চল্যকর ও ভীতি সৃষ্টিকারী ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশের প্রমত্তা পদ্মা নদীতেও এর অস্তিত্ব গবেষণাটিতে প্রমাণিত হয়েছে।

সাধারণত বাংলাদেশে ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং এজেন্ট হিসেবে টিনোপল নামক রাসায়নিক পদার্থ অধিকাংশ ডিটারজেন্টে ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত জামা কাপড়ের উজ্জলতা বৃদ্ধির জন্য ডিটারজেন্টে ব্যবহার করা হয়। এগুলো মূলত বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় পোশাক ধোয়ার কাজে বহুল ব্যবহৃত হয়। যা পরবর্তীতে নদী নালা ও লেকের পানির সাথে মিশে যায়।

এ বিষয়ে গবেষক মো. নাহিন মোস্তফা নিলয় জানান, ‘গবেষনাটি ইউজিসির অর্থায়নে ও অধীনে একটি প্রকল্প ছিল এবং এটি আমার থিসিসের অংশ। আমরা খুব শীঘ্রই পেপার সাবমিট করবো। তার আগে পাবলিক কনর্সানে দেওয়ার জন্য এটির একটি অংশ প্রকাশ করা হলো।’