১৫ জুলাই ২০১৯, ১৬:৫৩

আবারও নীলক্ষেত অবরোধের চেষ্টা ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের

সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নেমেছে আজ সোমবার। দুপুর ১২টায় নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন তারা।এ সময় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ এসে বাধা দিলে রাস্তা থেকে সরে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা ২০১৭-১৮ শিক্ষবর্ষের। ছাত্র-ছাত্রীরা সরে গেলে ওই এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ইডেন মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস একটি সহজ সাবজেক্ট। এ বিষয়ে গণহারে ফেল মেনে নেয়া যায় না। আর সিজিপিএ ২.০০ এর কম পেলে নট প্রোমোটেড, এই বিষয়ে আগে থেকে কিছুই আমাদের জানানো হয়নি। আমরা এর সমাধান চাই।

জানা যায়, রোববার ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজে ফলাফল বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে বাংলা বিভাগে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে ইডেন কলেজের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের প্রকাশিত ফলাফলে ৩০০ জন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে শুধু বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরে সব খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়ন করে প্রকাশিত ফলাফলে ৩-৪ জন ছাড়া বাকি সবাই কৃতকার্য হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভালো পরীক্ষা দিয়েও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বিষয়ে গণহারে ফেল করেছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিজিপিএ ২.০০ এর কম পেলে পরবর্তী বর্ষে শিক্ষার্থীকে উন্নীত করা হয় না। কোনোরকম নোটিশ ছাড়া হঠাৎ এই নিয়ম কার্যকর করায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা। এই নিয়ম কার্যকরের ফলে অনেক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারছেন না।

প্রসঙ্গত, সেশনজট, গণহারে ফেল, নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন, রুটিন প্রকাশসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে কিছুদিন পরপরই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত ৬ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর পরেরদিন তাদের দাবি আদায়ে ঢাবি প্রশাসন আশ্বাস দিলে আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেন। দুই বছরের বেশি সময়ের পরও সাত কলেজের সংকট কাটেনি। ফলে চরম হতাশা নিয়ে শিক্ষাজীবন পার করছে এসব কলেজের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত করা হয়। এগুলো হচ্ছে-ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই নানা সংকট লেগেই আছে এসব কলেজের। ফলে লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তারা কখনও পরীক্ষার রুটিন, কখনও ফলের দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেত ও শাহবাগের মোড় অবরোধ করছে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিতুমীর কলেজের আবু বকর সিদ্দিক নামে এক শিক্ষার্থী চোখও হারিয়েছে। তবুও সুফল পায়নি সাত কলেজের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর। তাই বারবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে তারা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঢাবি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলায় তারা চরম হতাশা নিয়ে শিক্ষাজীবন পার করছে।