গণরুম নিয়ে বিব্রত জাবি উপাচার্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছয় হাজার শিক্ষার্থী হলের বাইরে এবং নয় হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে গাদাগাদি করে থাকেন বলে জানিয়েছেন জাবি ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত নবীনবরন ও বিদায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরন ও ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় দেওয়া হয়।
এসময় ভিসি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের হলে একসাথে গাদাগাদি করে গনরুম করতে হয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আমার কাছে অত্যন্ত বিব্রতকর। শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে আমি ২০১৫ সাল থেকে সরকারের উচ্চ মহলে দেন দরবার করে আসছি। অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তর করার জন্য অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প পাস করেন। আমরা প্রথমে ৩৫০ কোটি ও পরে ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্প জমা দিলেও সরকার আমাদের ১৪৪৫ কোটি টাকা দেন।
হল নির্মানে গাছ কাটা ও পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগরে আর মাত্র ২১ শতাংশ ভূমি অবশিষ্ট আছে যেখানে ভবন নির্মান করা যায়। এগুলোতে ১০ তলা ও ১০০০ আসন বিশিষ্ট ৬ টি হল নির্মান করা হবে। এক্ষেত্রে যে গাছ গুলো কাটা পড়বে সেগুলো দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে রিকভারি করা সম্ভব। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হলের পেছন থেকে জামসিং এলাকা পর্যন্ত রিজার্ভ এলাকা বলে ঘোষনা করা হয়েছে। জাবি হবে একটি নগর যা সুন্দর পরিকল্পিত ও পরিবেশ সম্মত। এক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টি বহুদূর প্রসারিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পুর্নাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। এছাড়া কোন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে চাইলে সিন্ডিকেটের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে বলে উল্লেখিত রয়েছে আইনে।
তথাপি আবাসন সমস্যার কারনে প্রায় ৬০০০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করেন বলে ভিসি স্বীকার করেছেন।