শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা উচিত: ড. আতিউর রহমান
দেশের ভাগ্য বদলাতে প্রয়োজন শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। আর শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরিতে শিক্ষাখাতে সরকারের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। মঙ্গলবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘আধুনিক যুগে নেতৃত্বের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আতিউর রহমান বলেন, এখন জিডিপির ২-৩ শতাংশ বিনিয়োগ করা হচ্ছে অথচ বঙ্গবন্ধু তখনই বলে গেছেন জিডিপির সর্বোনিম্ন ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দরকার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীই দেশের ভাগ্য বদলে দিবে।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৭৯ ডলার যা আজ ১৯০০ ডলার। ২০৪১ সালে ১৪ হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের স্বপ্ন দেখি আমরা। বিভিন্ন গবেষণায় প্রবৃদ্ধি হারে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে তৃতীয় অবস্থানে রাখছে। এ অবস্থান এই অর্থবছরেই প্রথম হবে বলে আমরা আশাবাদী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে কৃষকের সন্তানরা। আমিও একজন কৃষকের সন্তান। আমি কখনো শহর দেখিনি। আমি যদি এখানে আসতে পারি তোমরা কেন পারবে না। তোমাদের মধ্যে সাফল্যের বুভুক্ষা থাকতে হবে। যে তোমাকে কষ্ট দিয়েছে তার কথা মনে রেখো না, কষ্টটা মনে রাখো। এটাই তোমাকে সফল করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে জন্মালেই দেশ আপন হয় না। দেশকে ভালোবাসতে হয়। এটাই আমার শক্তি। প্রকৃতি থেকে শিখতে হবে। নদী তার জল পান করে না, ফুল তার গন্ধ নেয় না। এভাবেই পরার্থপর অর্থনীতি আমাদের দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নেতৃত্ব সম্পর্কে বলেন, একমাত্র নেতৃত্বই পারে দেশটাকে এগিয়ে নিতে। সব ক্ষেত্রেই সুনেতৃত্ব চাই। তোমার সমস্ত কাজ যদি কারো মনে আশা জাগায়, স্বপ্ন দেখায় তাহলেই তুমি নেতা। তোমাকে চ্যালেঞ্জের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দিলে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তাহলেই যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।
অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা প্রমুখ। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ। বিভাগের শিক্ষক মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।