১৭ মার্চ ২০১৯, ১৬:১০

খোঁজ মিলেছে জাবির সেই ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ডের

কন্যাসন্তান জন্ম দেয়া ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ড রনি মোল্লা  © ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের একটি কক্ষে সন্তান জন্ম দেয়া সেই ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ডের সন্ধান মিলেছে। ছেলেটির নাম রনি মোল্লা। রনিও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। রনির বাড়ি পাবনায়। সে এইচএসসি পড়েছেন পাবনার শহীদ সরকারি বুলবুল কলেজে।

সন্তান জন্ম দেয়া ছাত্রীও একই কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন। মেয়েটির বাড়িও পাবনায়। দুজনের বাড়ি একই জেলাতে হওয়ার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। এমনকি দুজনেই হলে থাকতেন বিধায় তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে।

বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে জানা যায়, ওই ছাত্রী ও রনির মধ্যকার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। প্রেম থেকে একপর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। তারপরই ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তবুও অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রনির সঙ্গে ওই ছাত্রীর বেশ কয়েকবার বাগবিতণ্ডা হয়। একারণে তাদের সম্পর্কের অবনতিও হয়েছে।

হলের কক্ষে গোপনে সন্তান জন্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন রনি মোল্লা। সে ক্যাম্পাসে আসেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের কথা স্বীকার করে সন্তানের পিতৃত্বের কথা জানিয়েছেন রনি মোল্লা।

রনি মোল্লা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ওই সন্তানের বাবা আমি। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটেছে। এ নিয়ে কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না।’

জানা যায়, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওই ছাত্রী। কিন্তু বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে রুমের ট্রাঙ্কে নবজাতক শিশুকে লুকিয়ে রাখেন। রুমমেট আসলে কেবলমাত্র প্রসব বেদনার কথা বলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে। শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে বিষয়টি জানান। নার্স এসে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলে ওই শিক্ষার্থীকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে নবজাতক শিশুর কান্নার শব্দ পান। পরে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করেন হল প্রশাসন। নবজাতককে উদ্ধারের সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শরীর নীল বর্ণ ধারণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নবজাতককে নেয়া হয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে মৃত্যু হয় নবজাতকের।

এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের এক শিক্ষার্থীকে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হলের একটি কক্ষের তালাবদ্ধ ট্রাঙ্ক থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

জাবি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু জাফর শিকদার বলেন, ‘যখন আমাদের কাছে বাচ্চাটাকে নিয়ে আসা হয় তখন বাচ্চার পুরো শরীর নীল বর্ণের হয়ে গিয়েছিল। পরে আমরা পুরো শরীর পরিস্কার করে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করি। এরপর একটু স্বাভাবিক হলে আমরা এনাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করি।’

এদিকে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানা মাত্র আমি হলে যাই। কান্নার শব্দ শুনে সঙ্গে সঙ্গে ট্রাংকের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করি ও পরে তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাই। কিন্তু বাচ্চাটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের মৃত্যু হয়।

আরো দেখুন: জাবির সন্তান প্রসবকারী মেয়েটি সোয়েটার-চাদর পরে থাকতো