১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫২

প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে জাবির শিক্ষকরাই র‌্যাগিং বন্ধ করবে

জাবিতে শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন  © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‌্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা না নিলে নিজ উদ্যেগে র‌্যাগিং বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিরোধী শিক্ষকদের সংগঠন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ। আওয়ামীলীগ (একাংশ), বিএনপি ও বাম মতাদর্শের শিক্ষকদের নিয়ে তৈরি এ জোট। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদের ডীন লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়ে তারা এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘নতুন একটি ব্যাচ ভর্তি হওয়া মাত্রই তাদেরকে মৌখিক নিপীড়ন, গালিগালাজ মানসিক নির্যাতন এমনটি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। যাকে এক কথায় র‌্যাগিং হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই নিপীড়নের ফলে প্রতিবছরই অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ভয়ে শিক্ষাজীবন ত্যাগ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি অবস্থান নিলেও প্রশাসনের ভূমিকা ছিলো নিষ্ক্রিয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অপরাধীরা র‌্যাগিংয়ের প্রতি উৎসাহিত হচ্ছে।’হল প্রাধ্যক্ষ ও বিভাগের শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানায় সংগঠনটি।

সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের ছয়জন শিক্ষক বর্তমানে হল প্রভোস্টের দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও গত বছর এই গ্রুপের আরো ছয়জন শিক্ষক হল প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিলেন। প্রভোস্টের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তারা র‌্যাগিং বন্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি কেন সাংবাদিক এমন প্রশ্নের জবাবে প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কৌশিক সাহা বলেন, ‘র‌্যাগিং বন্ধে হল প্রশাসন পদক্ষেপ নিলেও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ জরুরী ছিলো। কিন্তু কেন্দ্রীয় প্রশাসন কখনোই এ বিষয়ে হল প্রশাসনকে যথেষ্ট সহযোগীতা করেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর কবির, অধ্যাপক শামছুল আলম, সদস্য সচিব অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, সদস্য ও শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা, অধ্যাপক কৌশিক সাহা, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম প্রমুখ।