০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০৩

ব্যর্থ জাবি প্রশাসন, পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীরা

গাড়ি পার্কিংয়ে নির্দেশনা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

বহিরাগত দর্শনার্থীদের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এটাই যেন নিয়ম হয়ে গিয়েছিল শুক্রবার ও শনিবারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে। শীতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অতিথি পাখি দেখতে আসা মানুষের সাথে থাকে বিলাসবহুল গাড়ি। যেগুলোর ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পদক্ষেপ কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারছে না। ফলে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে ও অতিথি পাখির উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থাপনায় বহু উদ্যোগ গ্রহণের পরেও আসেনি ফলপ্রসূ সমাধান।

কিন্তু আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে পেল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জোটের কর্মীরা গাড়ি পার্কিংয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন।

দর্শনার্থীদের সঠিক নির্দেশনা দিয়ে নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ে সহায়তা করেন সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা দর্শনার্থীদের গাড়ি যত্রতত্র পার্কিংয়ে নিষেধ করেন এবং নির্ধারিত স্থানে পার্কিংয়ে সহায়তা করেন। ফলে আজকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অন্যান্য ছুটির দিনের চেয়ে দেখার মতো ছিল মনে করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এই উদ্যোগের ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রশাসন গাড়ি পার্কিং নিয়ে চেষ্টা করছে কিন্তু প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বহিরাগতদের চাপের কারণে একজন নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীর পক্ষে সব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। হলগুলোর আশেপাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা অতিথিদের গাড়ি যথাস্থানে পার্কিংয়ের নির্দেশনা দিতে সহায়তা করেছি । ফলে আজ ক্যাম্পাসে গাড়িগুলো সুষ্ঠুভাবে পার্কিং করা হয়েছে।

সাধারণত ক্যাম্পাসে ছুটির দিনগুলোতে (শুক্রবার ও শনিবার) দর্শনার্থীদের ভিড় অনেক বেশী থাকে। এসময় তারা সঠিক নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা ছেড়ে বটতলা, হলের সামনে, শহীদ মিনারে, অতিথি পাখির লেকগুলোর রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে থাকে।
এর আগে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ লক্ষ্য করা যায়।