০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৫৫

কারণ-অকারণে ফেল ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে!

সাত কলেজের লগো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের একটি সরকারি তিতুমীর কলেজ। সম্প্রতি কলেজটির ২০১২-১৩ সেশনের চতুর্থ বর্ষে পরীক্ষার্থী ছিলেন মোট ২২৫জন, এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩৫; ফেলের সংখ্যা ১৯০জন। এমন চিত্র যে শুধু ইংরেজি বিভাগে তা নয়; অন্য বিভাগেও আছে। দর্শন বিভাগে ১৫০ জন ছাত্রের মধ্যে মাত্র ১৬ জন পাস করেছেন; যেখানে ফেলের সংখ্যা ১৩৪ জন। এছাড়াও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ২৮ জনে ৭ জন, এমনকি ইসলামিক স্টাডিজেও ১২২ জনে মাত্র ৪৩ জন পাস করেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারণ-অকারণে ফেল করা হয়েছে তাদের। ইংরেজি কিংবা বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোয় ফেলের সংখ্যা বেশি হতে পারে। কিন্তু দর্শন ও ইসলামিক স্টাডিজের মত বিষয়ে এ ধরণের ফল সত্যিই অস্বাভাবিক। তাদের ভাষ্য, সাত কলেজের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন- মানের প্রশ্নে আপস করবে না; এটা ভালো খবর। কিন্তু সেজন্য সঠিক পদ্ধতিতে পাঠদান করতে হবে। শুধু পরীক্ষার খাতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান খুঁজলে পাওয়া যাবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি, সাত কলেজে আগে পড়াশোনায় ঢাবির মান রক্ষা করা হোক, তারপর খাতা দেখায় কঠোরতা প্রয়োগ করা হোক। তাহলেই কোনো আপত্তি থাকবে না।

উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিতুমীর ছাড়াও ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগ থেকে ১১৩ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন, যেখানে পাস করেছেন মাত্র ১২ জন। দর্শন বিভাগে ১১৬ জনের মধ্যে ২৮ জন, ইতিহাস বিভাগে ১৪২ জনে ৭১ জন, গণিতে ৭৩ জনে ২৩ জন এবং ইংরেজি বিভাগে ১২৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৪ জন পাস করেছেন। সরকারি কবি নজরুল কলেজে ইংরেজিতে ১৪০ জনে ১৬ জন পাস, বাকি ১২৬ জনই ফেল। রসায়নে ৭০ জনের মধ্যে মাত্র ৪ জন পাস, ফেল ৬৬ জন। আর বদরুন্নেসার পদার্থবিজ্ঞানে একজনও পাস করতে পারেননি।

শুধু ঢাকা, তিতুমীর, কবি নজরুল কিংবা বদরুন্নেসা নয়, অন্য তিন কলেজেও একই ধরণের চিত্র বিরাজ করছে বলে খোঁজে পাওয়া গেছে। বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া হক বলেন, তাদের বিভাগ থেকে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ২৫ জনের সবাইকে ফেল করানো হয়েছে। আমরা আবারও খাতার পুনর্মূল্যায়ন চাই।

আর ঢাকা কলেজের মুশফিক বলেন, ‘তারা ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তাদের অনার্স ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা। অথচ ২০১৮ সালে এসে জানছি- আমরা সবাই চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের পরীক্ষার খাতার ভালোভাবে মূল্যায়ন হয়নি। এর প্রতিবাদ জানাই, সেই সঙ্গে পুনরায় ফল মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি। মুশফিক আরো বলেন, ‘আমাদেরকে যেহেতু ঢাবির মানে পড়ানো হয়নি, সেহেতু সে বিচারে খাতা মূল্যায়ন করলে সুবিচার পাব না। যতদিন শ্রেণিকক্ষের মানে উন্নতি না হয়, ততদিন আমাদের খাতা ছাড় দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।’


সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মানের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না এটা অত্যন্ত ভালো খবর। কিন্তু সেজন্য শিক্ষার্থীদের মানসম্মত করে প্রস্তুত করতে হবে। বিগত দুটি বছর আমাদের কীভাবে কেটেছে, সেটা সবারই জানা। ক্লাস হয়নি, পরীক্ষা হয়নি, শিক্ষার্থীদের রাস্তায় রাস্তায় ক্লাস-পরীক্ষার জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। সবশেষে এসে আমাদের খাতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান খোঁজা হলো।

 পরীক্ষার তারিখ দাবিতে বছরজুড়ে এভাবেই আন্দোলন করেছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

 

আজ আবারো বিক্ষোভ
এদিকে পুনরায় ফল মূল্যায়নের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। যে কর্মসূচিতে আজও (বৃহস্পতিবার) মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা নিজ নিজ কলেজের যোগাযোগ করেছেন; কিন্তু কোনো সমাধান পাননি। শুধু তাই নয়, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ করেও যেখান থেকে যথাযথ উত্তর মেলেনি। এ কারণেই তারা রাস্তায় রাস্তায় সমাধান খুঁজছেন। শীঘ্রই দাবি আদায় না হলে বড় ধরণের আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

শুধু পরীক্ষা নয়, ফল প্রকাশের দাবিতেও আন্দোলন করতে হয়েছে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের

 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন, ‘খাতা মূল্যায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। তার আলোকেই মূল্যায়ন করতে হয়। চাইলেও এর বাইরে যাওয়া যায় না। বিশেষ করে মানের প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় আপস করবে না। ভালো মানের পড়াশোনার ব্যবস্থা না করেই খাতা মূল্যায়নে ঢাবির মান অনুসরণ করা কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, তারা তো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশ, চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে বক্তব্যের শেষে ঘুরেফিরে ‘মান’ নামক বিষয়টিই টেনে আনেন সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই একাডেমিক কর্তা।