ক্রয়ের দু’বছর পরও জেনারেটর বসেনি জাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য জেনারেটর ক্রয়ের দুই বছর অতিক্রম হলেও আর্থিক সংকটের অযুহাতে সংযোগ স্থাপন করেনি কর্তৃপক্ষ। এতে লোডশেডিং হলেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
এছাড়াও গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব, অস্বাস্থ্যকর ও স্বল্প টয়লেটসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য একটি জেনারেটর ক্রয় করা হয়। যার ক্রয়মূল্য ৭ লাখ টাকা। কিন্তু জেনারেটর স্থাপনের জন্য কোন কক্ষ না থাকায় সেটি স্থাপন করেনি। পরে ২০১৭ সালের জুন মাসে জেনারেটরের জন্য একটি কক্ষ তৈরি করা হয়। কক্ষ তৈরির এক বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জেনারেটর সংযোগ স্থাপন করা হয়নি।
বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে জাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের এক কর্মকর্তা জানান, জেনারেটর ক্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ বাজেট দিয়েছিল, যেটি পর্যাপ্ত ছিল না। মূলত স্বল্প ওই বাজেটের কারণেই জেনারেটর ক্রয় করার পর সেটি যথাস্থানে স্থাপন ও নির্বাহ ব্যয় পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া এ সংক্রান্ত কাজের জন্য একাধিকবার প্রশাসনের সম্মুখীন হলেও যথাযথ সাড়া মিলছে না।
তিনি আরো বলেন, জেনারেটরের সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রকৌশল অফিস থেকে জানানো হয়েছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও পাত্তা পাওয়া যায়নি।
অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশল অফিসার আবদুস সালাম মো. শরীফ বলছেন, ‘কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জেনারেটর রুমের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একটি বাজেট করা হয়। বাজেট অনুযায়ী ২০১৭ সালের জুন মাসে রুম তৈরি করা হয়। রুম তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। আর এটা নির্মাণে কাজ করে সজল এন্টারপ্রাইজ। পরবর্তীতে গ্রন্থাগারের জেনারেটর স্থাপনের জন্য আর কোন বাজেট আমরা পাইনি। বাজেট পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ করব।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নওশাদ আলম বলেন, ‘লাইব্রেরীতে পড়াশোনা করার জন্য তেমন কোন সুব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রন্থাগারের ভিতরে অবস্থান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জেনারেটর ক্রয় করে দুই বছর ধরে নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। দায়িত্বরত শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়া মিলছে না।’
লাইব্রেরীতে পর্যাপ্ত বই নেই অভিযোগ করে নওশাদ বলেন, বই খোঁজার জন্য প্রাচীন আমলের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়; যা অনেক কঠিন। আবার অধিকাংশ প্রয়োজনীয় বই পাওয়া যায় না। এ সময় গ্রন্থাগারে গবেষণাপত্র সংরক্ষণে গাফিলতি, অস্বাস্থ্যকর ও স্বল্প সংখ্যক টয়লেট থাকারর বিষয়টিকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, টয়লেট সমস্যাও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অন্যতম সমস্যা। শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায় দুই ডজন টয়লেট রয়েছে; যার অধিকাংশই পরিত্যক্ত ও অপরিচ্ছন্ন।
এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘ক্রয়ের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জেনারেটর সংযোগ স্থাপনের জন্য আবেদন করে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সাড়া পাইনি। পরে গ্রন্থাগারের নিজস্ব অর্থায়নে সংযোগ স্থাপনের জন্য আবেদন করা হলেও সাড়া মেলেনি। চলতি মাসে এ কাজের অনুমতি পেয়েছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হবে। অন্যান্য সমস্যাগুলোও সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। আমি সকলের সাথে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেনারেটর সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করবো।’