১০ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৪

দেশে আলাদা গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় দরকার

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ড. সৈয়দ সাদ আন্দালিব  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার প্রধান দুর্বলতা হলো শিক্ষকদের গবেষণার জন্য সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব।  শিক্ষকদের সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবের কারণে তারা সমাজের জন্য ও ছাত্র-ছাত্রীদের গবেষণা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।  বাংলাদেশে গবেষণা খাতের উন্নতির জন্য দুটি বা তিনটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা উচিত।  একটি জাতীয় গবেষণা কাউন্সিল গঠন করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২৪তম মাসিক পাবলিক লেকচারের আলোচনা সভায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ড. সৈয়দ সাদ আন্দালিব উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের গবেষণাখাতে সরকারিভাবে আর্থিক বরাদ্দ কম।  এ খাতকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারের উদ্যোগও অনুপস্থিত।  বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের গবেষণার জন্য লাইব্রেরীও নেই।  ফলে এখানকার শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে গবেষণা কেন্দ্রিক আগ্রহ কম। যা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য ক্ষতিকর।  এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার জন্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে গবেষণা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

গবেষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু গবেষণা করলেই হবে না।  বরং গবেষকদের তাদের গবেষণাকে প্রায়োগিক করায়ও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

অতি সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় সম্পর্কে বলেন যে, বর্তমানে দেশে ৯৪ শতাংশ নারী গণপরিবহনে শারীরিক, মানসিক ও অন্যান্যভাবে নিযার্তনের স্বীকার হয়।

উন্মুক্ত আলোচনায় একজন শ্রোতা বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা গবেষণা করছে অধিকাংশ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে।  ফলে তা সকল জনগণের কাছে পৌছাচ্ছে না। বাংলা ভাষায় গবেষণা সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য তিনি গবেষকদের প্রতি আহবান জানান।  আরেকজন শ্রোতা বলেন, বাংলাদেশে গবেষণা ভিত্তিক মাস্টার্স চালুর প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।  তিনি বলেন, গবেষকদের বাংলাদেশের সমাজের প্রতি তাদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে তা বৃদ্ধি করতে হবে।  সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় জনগণের কল্যাণে কোনটি প্রয়োজন তা বোঝার জন্য প্রত্যেক গবেষককে তাদের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে।