জেডএনআরএফ ইউনিভাসিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  © সংগৃহীত

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘জেডএনআরএফ ইউনির্ভাসিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস’- এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় এক বর্ণিল আনন্দ উৎসব। আজ রবিবার (২৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে এ উৎসব আয়োজিত হয়। উৎসবটি দুই পর্বে ভাগ করে পরিচালনা করা হয়। প্রথমভাগে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এক বিশেষ আড্ডার আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

প্রথম পর্বের এই আড্ডাটি একেবারেই অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আড্ডায় শিক্ষার্থীদের সাথে অনলাইনে যোগ দিয়েছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। আরও যোগ দেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী লিনু বিল্লাহ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র শিল্পী শফিকুল ইসলাম স্বপন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আফসার, মানিকলাল সমাজদার, শাহাব আবদুল্লাহ, মিজান আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, মুজিবর রহমান, জাহেদুল মাহমুদ জামী ও হেলাল তসলিম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. জুবায়দুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। এই আড্ডা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আইকিউএসির পরিচালক রুমা হালদার।

আড্ডার শুরুতে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতের ঘটনাবলীসহ মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনের আদর্শকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনের আহবান করেন।  

এরপর শাহাব আব্দুল্লাহ তার বন্ধু মঈদুল ইসলাম চুনীর সাথে একত্রে ট্রেনিং ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা ও সম্মুখ যদ্ধের বর্ননা দেন।  তিনি ছাত্রছাত্রীদের মুক্তিযোদ্ধদের রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের তথ্য উৎথাপন করেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম স্বপন তিনি ১৯৭১ সালের গেরিলা ট্রেনিং শেষ করে বাংলাদেশে প্রবেশের ভয়ানক স্মৃতির কথা স্বরণ করে শিক্ষাথীর সাথে এক আবেগঘন ঘটনা শেয়ার করেন। হেলাল তাসলিম তিনি কিশোর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন বলে জানান। তিনি একটি কিশোরের দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের বর্ননা দেন।  

মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সুন্দরবনে পাকবাহীনির বিরুদ্ধে এক গেরিলা যুদ্দের বর্ণনা দেন। কর্নেল তৌফিকুর রহমান, বীর মুক্তি যোদ্ধা ঢাকা উত্তর ও ২নং সেক্টর , গেরিলা অব ঢাকা বইটির রচয়িতা, তিনি রেগুলার ফোর্স এবং মাইনর অপারেশন সম্পের্কে শিক্ষোর্থীদের ধারণা দেন। তিনি ১৯৭১ এবং তার পূর্ব সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তানীদের মধ্যকার বৈষম্যগুলো তুলে ধরেন। 

এরপর আড্ডা যোগ দেন জাহেদুল মাহমুদ যামী। যিনি বীর যুদ্ধবন্দি এবং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে তিনি এবং তার সহযোগীরা ঢাকার বিএনআর (ব্রূর অব ন্যাশনাল রিকনষ্ট্রাকশন) এর অফিসে বোমা হামলা করেন। এরপর ২৫শে মার্চের রাত থেকেই অস্ত্র সংগ্রহ করে রাজারবাগ পুশলশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহণ করে জিঞ্জিরায় অবস্থান নেন। এরপর স্থানীয়ভাবে তিনি বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। তাকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তুলে নেয় এবং বন্দী অবস্থায় অকথ্য নির্যাতন করে। পরবর্তীতে যুদ্ধবন্দি হিসাবে মুক্তি পেয়ে ঢাকা উত্তর মুক্তিবাহীনির সাতথ যোগদান করেন। এই সময়ের কয়েকটি অপারেশনের কথা বর্ণনা করেন। তারা কত কষ্টের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন তার বর্ণনায় উঠে আসে দেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ট্রাস্টি। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা লিনু বিল্লাহ যুদ্ধবন্দি অবস্থায় পাকবাহিনীর হাত নির্যাতনের অভিজ্ঞতার শেয়ার করেন। এবং কীভাবে তিনি তার তিন ভাইকে নিয়ে মুক্তি পান তার বর্ণনা দেন। 

এই পর্বের শেষভাগে লিনু বিল্লাহ তার দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে টেলিভিশনে তার প্রথম গান ও আমার বাংলা মা তোর- গানটি গেয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে দেশ স্বাধীনের আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ইউনির্ভাসিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে এই পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

দুপুরের পরে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষ্যে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, কবিতা এবং কৌতুক প্রদর্শন করে। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এই বিনোদন অনুষ্ঠানটি কেক কাটার মধ্যদিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


সর্বশেষ সংবাদ