ইচ্ছামতো গ্রেড দিচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

মানছে না ইউজিসির নির্দেশনা
২০ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২৫ AM , আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫১ PM
লোগো

লোগো © ফাইল ছবি

দেশের উচ্চশিক্ষা তদারক প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ম-নীতি খুব একটা তোয়াক্কা করে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চলে অনেকটা তাদের মর্জিমতো। ক্রেডিট, ক্যাম্পাস স্থানান্তরসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির নানা নির্দেশনা মান্য করছে না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের কাছে অনেকটাই নির্দেশনা দেয়া প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে উচ্চশিক্ষার তদারক করা এ প্রতিষ্ঠানটি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ইউজিসির কাজ যেন অনেকটা নির্দেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)’র প্রণীত গ্রেডিং অনুযায়ী দেশে উচ্চশিক্ষায় ৮০ বা এর বেশি নম্বর পেলে একজন শিক্ষার্থীকে ‘এ-প্লাস’ বা সিজিপিএ-৪ দেওয়া হবে। ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর পেলে তা ‘এ রেগুলার’ বা সিজিপিএ-৩ দশমিক ৭৫ এবং ৭০ থেকে ৭৪ পেলে ‘এ মাইনাস’ বা সিজিপিএ-৩ দশমিক ৫ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ৬৫ থেকে ৬৯ এর জন্য ‘বি প্লাস’ বা সিজিপিএ-৩ দশমিক ২৫, ৬০ থেকে ৬৪ এর কম পেলে তা ‘বি রেগুলার’ বা সিজিপিএ-৩ হিসাবে শনাক্ত করা হবে।

এরপর ৫৫ থেকে ৫৯ এর জন্য ‘বি মাইনাস’ বা সিজিপিএ-২ দশমিক ৭৫; ৫০ থেকে ৫৪-এর জন্য এ ‘সি প্লাস’ বা সিজিপিএ-২ দশমিক ৫ দেওয়া হবে। ব্যক্তি পরীক্ষায় ৪৫ থেকে ৪৯ পেলে তা ‘সি রেগুলার’ বা সিজিপিএ-২ দশমিক ২৫; ৪০ থেকে ৪৪ পেলে ‘ডি’ বা সিজিপিএ-২ অধিকারী হবেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ৪০-এর কম হলে ‘এফ’ বা অকৃতকার্য দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে সংস্থাটির।

ইউজিসির নির্দেশনার বিপরীতে নিজেদের তৈরি পদ্ধতি অনুযায়ী ইচ্ছামতো গ্রেডিং ও লেটার গ্রেড প্রদান করছে দেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তথ্য বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে ৮০ নম্বর পেলে শিক্ষার্থীরা ‘এ প্লাস’ বা সিজিপিএ ৪ অর্জন করে, সেখানে একই পরিমাণ নম্বর পেয়ে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনএসইউ) একজন শিক্ষার্থী বি-মাইনাস পায়। এনএসইউতে পাশ নম্বর ৬০। কোনো শিক্ষার্থী ৫৯ পেলে তাকে ফেল বা অকৃতকার্য ধরা হয়। আর সিজিপিএ-৪ পেতে হলে সর্বনিম্ন পেতে হয় ৯৩ নম্বর। বিপরীতে, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) একজন শিক্ষার্থী ৯০ নম্বর পেলেই সিজিপিএ-৪ অর্জন করতে পারে।

আরেক বেসরকারি উচ্চশিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির এ প্লাসকে বলা হয় ‘এক্সিলেন্স’ আর লেটার গ্রেডে ‘এ’। কিন্তু কত নম্বর পেলে এ গ্রেড দেওয়া হয় সেটি অস্পষ্ট। এই প্রতিষ্ঠানটি ফল তৈরিতে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১টি স্তর অনুসরণ করে। এরমধ্যে শূন্য গ্রেডেই আছে বিভিন্ন নামে ১০টি স্তর। সর্বনিম্ন সিজিপিএ-১ এরজন্য লেটার গ্রেড হচ্ছে ডি, যেটিকে ব্যাখ্যা করে বলা হয় ‘ডেফিসিয়েন্ট পাসিং। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ৯০ পেলে এ গ্রেড বা সিজিপিএ ৪ দেয়। কোনো এ প্লাস নেই। পাশ নম্বর ৬০।

ইউজিসির নিজেদের তৈরি পদ্ধতি মানছে না ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতও। তাদের একজন শিক্ষার্থীকে সিজিপিএ ৪ পেতে ৯৭ নম্বর পেতে হলেও পাশ নম্বর অবশ্য ৫০। এ তালিকায় এআইইউবি ৯০ নম্বরে সিজিপিএ ৪ দেওয়ার পাশাপাশি লেটার গ্রেডে এ প্লাস দিচ্ছে। তাদের পাশ নম্বর ৫০।

ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতেও এ প্লাস পেতে হলে এনএসইউর মতো পেতে হবে ৯৭ নম্বর। তাদেরও  পাশ নম্বর ৬০। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) সিজিপিএ ৪ কে তারা ‘আউটস্ট্যান্ডিং বললেও লেটার গ্রেডে এ প্লাস ও সিজিপিএ ৪ কত নম্বরে সেটি জানায় না।

আরও পড়ুন: ইয়েস প্রোগ্রামে আমেরিকায় পড়ার সুযোগ

তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই ৮০ শতাংশ নম্বর পেলে এ প্লাস বা সিজিপিএ ৪ দিয়ে থাকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটিতে পাশ নম্বর ৪০ শতাংশ, কিন্তু এটাকে লেটার গ্রেডে ডি আর সিজিপিএ ২ হিসাবে উল্লেখ তারা। এছাড়া আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইচ্ছামতো গ্রেডিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) যদিও বলছে, পরীক্ষায় মূল্যায়নে এভাবে ভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করায় বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজার কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছেন; বিষয়টি সুরাহার জন্য অনেকেই ইউজিসিতে আবেদন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ‘র পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) মো. ওমর ফারুখ বলেন, ২০০৬ সালে তারা একটি অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি তৈরি করে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। সব পাবলিক এবং অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সেটি অনুসরণ করছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সেটি মানছে না। শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে তাগিদপত্র পাঠানো হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে। ইউজিসির সার্কুলার অমান্য করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্যক্তিগতভাবে সবসময়ে ইউজিসি প্রণীত অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের পক্ষপাতী জানিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুর ইসলাম বলেন, ইতঃপূর্বে এ ব্যাপারে বোর্ড সভায় ও সিন্ডিকেটে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ায় তা আর বাস্তবায়ন করা যায়নি।

অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, এনএসইউ আন্তর্জাতিক গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিংয়ের কোনো অভিন্ন মাপকাঠি নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো তার ইচ্ছামতো এ পদ্ধতি তৈরি করতে পারে। পৃথিবীর সবদেশে বিশেষ করে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় একেক বিশ্ববিদ্যালয় একেক ধরনের গ্রেডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে, যেটা তাদের নিজেদের মতো করে তৈরি করা। এটা বরং তাদের মর্যাদার পরিচায়ক বলেও জানান এই উপাচার্য।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএম কলেজের ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার উন্নয়…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
পে স্কেল পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের, উদ্বেগ আরও ৩ ইস্যু…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে এবার ক্রীড়া জ্যোতিষীর ভবিষ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
এআই বদলে দিতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থানেও বড় ধাক্ক…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে ভ্রমণের দিক দিয়ে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিন…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence