ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: আরেক আসামিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের ছাত্রী ধর্ষণের মামলার আরেক আসামিকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক।
আজ রবিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল থেকে তাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
এর আগে দুপুরে মগবাজার এলাকা থেকে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদাকে ডিবি পরিচলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছিলেন তার মা মাসুমা বেগম বকুল। তিনিও ওই মামলার আসামি। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন নামের আরেক নেতার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
আজ রবিবার রাতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, দুপুরে গণসংহতি আন্দোলনের প্রোগ্রাম শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সোহরাবের মেসে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। বিকাল ৩টার পর থেকে সোহরাবের কোনো খোঁজ নেই। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও, তার সন্ধান মেলেনি।
তিনি জানান, তাদের সংগঠনের ঢাবি কমিটির সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা আজকে রাজধানীর মগবাজারে একটি কোম্পানিতে চাকরির ভাইভা দিতে যান। ভাইবা শেষ করে বের হওয়ার পর গেট থেকে ডিবি পরিচয়ে দুপুর ২টার দিকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাশেদ আরও জানান, তাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলামকে রবিবার রাত ৮টায় রাজধানীর চানখাঁরপুল থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে। অনতিবিলম্বে এই তিন নেতাকে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন রাশেদ।
প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন ঢাবির ওই ছাত্রী। এতে পরিষদের অব্যাহতি প্রাপ্ত আহবায়ক হাসান আল মামুনকে ১ নম্বর আসামি এবং ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।
পরদিন ওই ছাত্রী রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। দ্বিতীয় মামলায় ১ নম্বর আসামি সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান। দুই মামলাতেই আসামি হিসেবে রয়েছেন পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকি।
তবে ১৭ দিন পার হলেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন তিনি।