যা বললেন চেয়ারে বসে সমালোচিত সেই ইউএনও শাফিয়া
নরসিংদীর মনোহরদীর চরমান্দালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম গত মঙ্গলবার মারা যায়। তার নামাজে জানাজার আগে স্মৃতিচারণা করছিলেন অনুরাগীরা। এসময় স্থানীয় এমপি শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন শ্রদ্ধা প্রকাশার্থে ছিলেন দাঁড়ানো। ঠিক এই সময় চেয়ারে বসা ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাফিয়া আক্তার শিমু।
গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দৃশ্য ভাইরাল হয়। একইভাবে তা নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, একজন মানুষ হিসেবে আমার সবসময় চেষ্টা থাকে সবাইকে সম্মান ও সহযোগিতা করার। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করার সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ যখন দীর্ঘ বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন মন্ত্রী মহোদয় চেয়ার থেকে উঠে বলেন বক্তব্য ছোট করতে। সময়টা ২-৩ সেকেন্ডের। এরই মধ্যে কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে একটা ছবি তোলে তা ভাইরাল করে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, ইউএনও শাফিয়া আক্তার শিমু নিজেই পরিচয় দেন তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় ওনার চাকরি হয়। সেখানে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাতে গিয়ে একজন মন্ত্রী যখন দাঁড়িয়ে, ঠিক তখন একজন ইউএনও চেয়ারে বসে থাকেন কিভাবে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। এটা বেয়াদাবির চূড়ান্ত পর্যায়।
জানা গেছে, তিনি মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নরসিংদী আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের বড় ভাই। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে নেতাকর্মীরা জানান, তার মৃত্যুর খবর শুনেই দলীয় নেতাকে সম্মান জানাতে ছুটে আসেন শিল্পমন্ত্রী। জানাজার নামাজে মরহুমের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা যখন মাইকে শোক মঞ্চে স্মৃতিচারণ করছিলেন, তখন শিল্পমন্ত্রী চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যান। কিন্তু তখন ইউএনও শাফিয়া আক্তার শিমু চেয়ারে বসেছিলেন।