১৫ জুন ২০২০, ২৩:৩০

মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার দু’দিন পরও খোঁজ মেলেনি ছাত্রদল নেতার

  © সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যশোরে ছাত্রদলের এক নেতা ও তার বন্ধুকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর দু’দিন পার হলেও পরিবারের সদস্যরা র‌্যাব ও পুলিশের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজ পাননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই নামে কাউকে আটক করেনি।

নিখোঁজ ইব্রাহিম হোসেন যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও নতুনহাট গ্রামের মাহবুব মোল্লার ছেলে। তার বন্ধু রিপনের বাড়ি সদর উপজেলার মেঘলা গ্রামে।

ইব্রাহিমের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে আমাদের বাড়ির কাছে ঝিকরগাছা উপজেলার অন্তর্গত লাউজানি বাজার থেকে সাদা পোশাক পরা একদল লোক আমার ভাই ও তার বন্ধু রিপনকে একটি মাইক্রোবাসে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে অপহরণকারীরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়। তারা স্থানীয়দের গুলি করার হুমকি দিয়ে তাদের তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে ওই দুই জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, ওই রাত থেকেই তারা ঝিকরগাছা ও কোতোয়ালি থানার ডিবি পুলিশের দফতরে গিয়ে অপহৃতদের সন্ধান পাননি। 

নিখোঁজ ইব্রাহিমের মা নূরজাহান বেগম বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে নাশকতার রাজনৈতিক মামলা রয়েছে বেশ কয়েকটি। এছাড়া অন্য কোনও ধরনের অপরাধের অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে। ছেলে অপহরণের ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করবো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দুইজন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দু'টি মোটরসাইকেলে এসে লুঙ্গিপরা চার ব্যক্তি তাদের ধরেন। তারা দু'জন চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যান, তখন আটককারীরা লুঙ্গি খুলে ফেলেন। দেখা যায় তাদের লুঙ্গির নিচে প্যান্ট পরা রয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয় এবং কাউকে এগিয়ে আসতে নিষেধ করেন। এরপর একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস এসে তাদের তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন জানিয়েছেন—মোটরসাইকেল, গাড়ি আর আটককারীদের আচরণে মনে হয়েছে, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা এ ধরনের কোনও অভিযান চালায়নি। এছাড়া অপহরণের অভিযোগে কোনও মামলাও পাইনি।

এদিকে, র‌্যাব-৬ যশোর ক্যম্পের অধিনায়ক লে. এম সরোয়ার হুসাইন জানান, ইব্রাহিম ও রিপন নামে কাউকে তারা আটক করেননি।