১৫ মার্চ ২০২০, ০০:১২

পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

  © সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদ হাসানের (৪০) মৃত্যু হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানা-পুলিশের একটি দল শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ জাহিদ হাসানকে আটকের পর নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে জাহিদের মৃত্যু হয়েছে।

জাহিদ হাসান দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী ও আট বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। জাহিদ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দুই বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যার আগে দামুড়হুদা থানা থেকে পোশাক পরিহিত ও সাদা পোশাকে একদল পুলিশ জয়রামপুর গ্রামে যায়। পুলিশ সদস্যরা জয়রামপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে মাদক গ্রহণের অভিযোগে আটক করে। এ সময় জাহিদ হাসানসহ স্থানীয়রা সংগঠিত হয়ে হাবিবুরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা জাহিদ হাসানকে পিকআপে তুলে রওনা দেয়।

জাহিদ হাসানের খালা হেলেনা খাতুন অভিযোগ করেন, বিনা অভিযোগে পুলিশ ভাগনেকে আটক ও পিটিয়ে হত্যা করেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, আমার সামনে থেকেই জাহিদকে পুলিশ আটক করে। আমি পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে ছাড়া হয়নি। পরে শুনি তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস বলেন, পুলিশের গাড়িতে করে থানায় আনার সময় জাহিদ হাসান অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিতে বলেন। সেখান থেকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিল আর সালান বলেন, রাত আটটার কিছুক্ষণ আগে পুলিশ ও স্বজনেরা জাহিদ হাসানকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে হাসপাতালে আনার আগেই জাহিদ মারা যান।