০১ মার্চ ২০২০, ১০:০৮

কে এই মুহিউদ্দিন ইয়াসিন

মালয়েশিয়ার অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মুহিদ্দীন ইয়াসিন। রোববার সকালে শপথ নিয়েছেন তিনি। শনিবার মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী এই নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন দেশটির রাজা সুলতান আবদুল্লাহ সুলতান আহমাদ শাহ। অবশেষে দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে।

এর আগে মাহাথিরের সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুহিদ্দীন ইয়াসিন। প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী করতে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের দল পিকেআরের ১১ জন আইনপ্রণেতা তাকে সমর্থন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মুহিদ্দীনের নাম এর আগেই ঘোষণা করেছিল মাহাথিরের দল মালয়েশিয়ার ইউনাইটেড আদিবাসী পার্টি (বারসাতু)।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তবে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও মন্ত্রিসভা গঠনের আগ পর্যন্ত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজা সুলতান আবদুল্লাহ সুলতান আহমাদ শাহ।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার ক্ষমতাচক্রের শীর্ষে আরোহণের উপায় মুহিউদ্দিনের চেয়ে ভালো খুব কম রাজনীতিবিদই জানেন। ১৯৭৮ সালে দেশটির রাজনীতিতে পদার্পণ মুহিউদ্দিনের। সেবারই পাগোহ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ৪২ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছয়টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন মুহিউদ্দিন। পররাষ্ট্র এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পদেও ছিলেন ৭২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

এসবের চেয়ে বড় দায়িত্বও সামাল দিতে হয়েছে মুহিউদ্দিনকে। মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল পাকাতান হারাপান ক্ষমতায় থাকার সময় মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। দেশটির ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সময়ে ছয় বছর উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৫ সালে মুহিউদ্দিনকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেন নাজিব। নাজিব রাজাকের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কথা বলায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

রাজাকের দল থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর মাহাথির ও তাঁর ছেলে মুখরিজের সঙ্গে হাত মেলান মুহিউদ্দিন। ২০১৬ সালে সবাই মিলে গঠন করেন রাজনৈতিক দল পার্টি প্রিবুমি বারসাতু মালয়েশিয়া (পিপিবিএম)। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল নবগঠিত এ দলটি।

পিপিবিএম থেকে মাহাথির মোহাম্মদ সরে দাঁড়ানোর পর দলটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহিউদ্দিন। এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও মাহাথিরের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন তিনি। এ ছাড়া পাকাতান হারাপানের উপপ্রধান হিসেবেও দায়িত্বে আছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য জোহরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৯ বছর দায়িত্বে ছিলেন মুহিউদ্দিন। তাঁর বাবা একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব মালয় থেকে ১৯৭০ সালে অর্থনীতি ও মালয় স্টাডিজে স্নাতক সম্পন্ন করেন মুহিউদ্দিন। প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে উমনো ও পিএসএ নামের দুই দলের সমর্থন নিতে হয়েছে মুহিউদ্দিনকে। তবে উমনোর সঙ্গে তাঁর এই সখ্যর সমালোচনা করেছেন মাহাথির মোহাম্মদ।