০২ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:২৩

তাপসের হাতে ২৬ কোটি, ইশরাকের ঝুলিতে ৩৩ হাজার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপস। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে। অন্যদিকে দক্ষিণে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। অবিভক্ত ঢাকার প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে তিনি। যুক্তরাজ্য থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি নিয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই দুই প্রার্থী উচ্চশিক্ষিতও।

শেখ ফজলে নুর তাপসের হাতে নগদ আছে ২৬ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। অন্যদিকে ইশরাক হোসেনের হাতে নগদ টাকা আছে মাত্র ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা। আগামী ৩০ জানুয়ারি হতে যাওয়া সিটি নির্বাচনে জমা দেয়া হলফ নামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামা অনুযায়ী তাপসের বছরে মোট আয় ৯ কোটি ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাকি আয় এসেছে কৃষি, ঘর ভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানতসহ অন্যান্য খাত থেকে। গত এক বছরে তার আয়ের পরিমান কমেছে বলে হলফনামায় দেয়া তথ্য ঘেটে দেখা গেছে।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১০ কোটি ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬২১ টাকা। তাঁর হাতে নগদ আছে ২৬ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। নিজের তিনটি ও স্ত্রীর একটি গাড়ি আছে। সব মিলিয়ে ১০৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার আছে ৪৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৪ টাকার। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকার। স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ আছে ৯ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৭২৭ টাকার।

নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, আপনারা আমাকে পরীক্ষা করে দেখবেন। আপনাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত হলে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ইনশাআল্লাহ দ্রুত বাস্তবায়ন করব। আমি আশা করব ঢাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। ঢাকাবাসীকে আরও বেশি সেবা দেয়ার ইচ্ছা থেকেই আমি মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী ইশরাকের জমা দেয়া হলফনামা অনুসারে, বিভিন্ন উৎস থেকে তার বার্ষিক আয় ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তাঁর বার্ষিক আয় ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিল ৪৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭ টাকা।

এখন সব মিলিয়ে ইশরাকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৬ টাকার। তাঁর হাতে নগদ টাকা আছে মাত্র ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ টাকা। আছে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকার। একটি অ্যাপার্টমেন্ট, জোয়ার সাহারায় নির্মাণাধীন ভবন এবং কৃষি ও অকৃষি জমি আছে।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপার আশাবাদী ইশরাকও। তিনি বলেন, দেশবাসী ও নগরবাসী সকলে মিলে আমরা এর মোকাবিলা করব। বিজয় আমাদের নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। বিজয় আমাদের থেকে কেউ নিতে পারবে না। আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনব এবার।