নুর কিছু ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনায় থাকতে চায়: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর কিছু ঘটনা ঘটিয়ে মাঝেমধ্যেই আলোচনায় থাকতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘ঢাবিতে নুর ও তার সহযোগীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক, নিন্দনীয়, অমার্জনীয়। আমরা এ ধরনের হামলা সমর্থন করি না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার হবে। তবে বহিরাগতদের নিয়ে নুর কেন ডাকসু ভবনে গেলো বিষয়টি রহস্যজনক। ডাকসুর কাজ ছাত্রদের বিষয় নিয়ে কাজ করা, ভারতের রাজনৈতিক বিষয় তো তাদের কাজ না।’
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই রাজনীতিকে ঘোলাটে করতে চায়, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য ঘটিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।’
ছাত্রলীগ এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে, সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে ছাত্রলীগের নেতারা ও ছাত্রফ্রন্টের নেতারাও থাকতে পারে। কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যেকোনও ছাত্র সংগঠনের নেতারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। কিন্তু ঘটনাটি ঘটেছে মঞ্চের ব্যানারে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সরকারে কাজ করছি। সম্প্রতি আমাদের সম্মেলন সফলভাবে শেষ হয়েছে। যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের দলে আনা যাবে না। অতীতে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে রাজনীতির হাট বানিয়েছেন। খালেদা জিয়া তার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন। বাংলাদেশ একসময় ছিল ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। আজ এই দেশ আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, ঝুড়ি উপচেপড়া দেশ। আওয়ামী লীগে নিয়মিত সম্মেলন হয়, যা অন্য দলে হয় না। গণতান্ত্রিক পথে আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচিত করা হয়, যা অন্য দলে হয় না। তাই আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনেক দলের জন্য অনুকরণীয়।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করেছেন। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এই মর্যাদা আমি রক্ষা করবো।’
প্রসঙ্গত, রবিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ঢাবির ডাকসু ভবনে ভিপির কক্ষে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নুর ও তার সংগঠনের অন্তত ১৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ছাত্রলীগ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।