২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:২৯

আমরা পরিবহন ‘ধর্মঘট’ ডাকিনি: শাজাহান খান

  © ফাইল ফটো

সদ্য হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা গত সপ্তাহে ঢাকাসহ সারাদেশে ‘ধর্মঘট’ ডেকে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজহান খান জানিয়েছেন, তারা কোনো ধর্মঘট ডাকেননি।’

রোববার সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবানের জন্য টাস্কফোর্সের প্রথম সভা শেষে শাজাহান খান এ কথা জানান। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ স্থগিত ও সংশোধনসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে গত বুধবার (২১ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তবে ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘট না ডাকলেও ২১ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে সাংবাদিকরা শাজাহান খানের বক্তব্য জানতে চান। তবে প্রথমে তিনি কথা বলতে রাজি না হলেও পরে তিনি কথা বলেন।

সাংবাদিকরা জানতে চান, আপনারা ধর্মঘট ডাকেন মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটনো চালকের জামিন চাইছেন কেন- এ বিষয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘দাবিটা ছিল এই কারণে যে, আপনারা কিন্তু পত্রপত্রিকায় লেখেন এখনও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। বাস্তবতাটা আপনারা উপলব্ধি করতে পারছেন কি-না আমি জানি না। বাস্তবতাটা হলো এই, লাইসেন্সের কথা মাননীয় মন্ত্রী বলছেন, অনেক ঘাটতি আছে, লাইসেন্স দিতে পারছে না বিআরটিএ। ভুয়া ও ফেক লাইসেন্স নিয়ে যদি কেউ গাড়ি চালায় তার তো জরিমানা হবে, জেল হবে। সে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে পারছে না।’

অনেক গাড়ির ফিটনেস না থাকায় সেগুলো চলছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক গাড়ির ফিটনেস না থাকায় সেই গাড়িগুলো আইনের কারণে চালাতে পারছে না, ওই আইনের কারণে। সে জন্য রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম। এই বাস্তবতাটা আপনারা লেখেন না, লেখেন স্বাভাবিক হয়নি। আমি মনে করি সবই স্বাভাবিক চলছে। লাইসেন্স ও কাগজপত্র নেই, সেই কারণে (গাড়ির) ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’

শাহজাহান খান বলেন, ‘কয়েকটি ধারা জামিনযোগ্য করার বিষয়ে বলা হয়েছে, একজন ড্রাইভার কত টাকা আয় করে। সে তার সীমিত আয় দিয়ে সংসার পরিচালনা করে। একজন ড্রাইভার মাসে ১৫ দিনের বেশি গাড়ি চালাতে পারে না। ১৫ দিনের আয় দিয়ে তাকে এক মাস সংসার পরিচালনা করতে হয়। জেল যা আছে সেটা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

আমরা সরকারের কাছে দাবি করেছি, একজন ড্রাইভার যদি দুর্ঘটনা ঘটান সে যদি দীর্ঘদিন জামিন না পান তবে ড্রাইভারের ঘাটতি পড়ে যাবে। এক বছরে সারাদেশে ৩/৪ হাজার দুর্ঘটনা হয়, তাহলে ৩/৪ হাজার ড্রাইভারের ঘাটতি পড়ে যাচ্ছে। আমরা এখনও কিন্তু ৩/৪ হাজার ড্রাইভার প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করতে পারছি না, আমাদের সেই ক্যাপাসিটি নেই।’