০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৬

৯ বছর পর আজ মধুতে বসবে ছাত্রদল!

ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে মধুর ক্যান্টিন কেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিতে পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতির এই ‘পাওয়ার হাউজে’ নিয়মিত যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। মূলত তারই অংশ হিসেবে দীর্ঘ ৯ বছর পর আজ মধুতে বসবে তারা। তার আগে দলটির কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‍উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।

দলের বিএনপির কেন্দ্রিয় অফিসে ডাকসু নিয়ে আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় এমন সিদ্ধান্তই হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

সভায় উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছাত্রদল সব সময়ই সহাবস্থান চায়। আমরা দুই একদিনের জন্য ক্যাম্পাসে যেতে চাই না। কিন্তু নিকট অতীতে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো সহযোগিতা পাইনি। যেহেতু বর্তমান প্রশাসন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন; তাই আজ আমরা কেন্দ্রিয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি মিলে মধুতে যাচ্ছি।

সূত্রের তথ্য, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরার স্মারকলিপি দেবেন দলটির কেন্দ্রিয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতারা। এরপরই তারা সম্মিলিতভাবে মধুর ক্যান্টিনে যাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, ইতোমধ্যেই বেশ কিছু নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।

জানা যায়, মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল সর্বশেষ গিয়েছিল প্রায় ৯ বছর আগে। ২০১০ সালে। কিন্তু সে সময় ছাত্রলীগের হামলায় তৎকালীন ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিদুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী মাইনুলসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এরপর আর মধুতে ফেরেনি দলটি। যদিও ২০১৭ সালে ১০ আগস্ট ডাকসু আলোচনায় অংশ নিতে মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে এসেছিলেন; কিন্তু সে সময়ও ছাত্রলীগের ধাওয়ায় চলে যেতে হয় তাদের।

তবে বর্তমানে নেতারা বলছেন, ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে আমরা মধুর ক্যান্টিন কেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাই। তারই অংশ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনে যাবেন তারা।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৯ বছর পরে আগামী মার্চে নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। শিঘ্রিই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল। এজন্য দফায় দফায় চলছে বৈঠক। প্রতিদিনই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপাচার্য রিটার্নিং কর্মকর্তারাসহ ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর। গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশও করেছে।