১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৩০

নির্বাচনকে ঘিরে সরব ছাত্রলীগ, কৌশলী ছাত্রদল

  © লোগো

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে দেশের আনাচে-কানাচে। যার আমেজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজে পাওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সারা বছরের মত এখনো ক্যাম্পাসে সরব থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির বাইরে থাকা ছাত্রদলকে কৌশলগত অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। আর এটাই গোটা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক চেহারা পাল্টে দিয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে চলা ক্যাম্পাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর চবিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাত্রীদের ‘বেগম খালেদা জিয়া হল’র নাম উপড়ে ফেলে। একইদিন ছাত্রদলের সাত সদস্যের একটি কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট এঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে স্মারকলিপিও প্রদান করে ছাত্রদল।

পরদিন ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের কর্মীদেরকে ক্যাম্পাসে খুঁজে বেড়ায়। শেষে দুপুরের দিকে চবির লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চবি ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক তালিমুল ইসলাম সায়েমকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে মারধর করা হয়। এমনকি ফেইসবুক লাইভে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ চবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ লিখিত ষড়যন্ত্রমূলক পত্র পড়তে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ তোলে ছাত্রদলের ওই নেতা।

এ ঘটনায় ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চবি ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আইনুল হোসেন সাগর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে চবি ছাত্রলীগকে প্রক্টরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অবস্থান সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অনেকটাই নিশ্চিত হয়। শুধু তাই নয়, বিষয়টিকে ছাত্রদলের পরিকল্পনা ও কৌশল হিসেবেই দেখছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাসহ অনেকে।

সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল টিপু বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে চবি ছাত্রলীগ সতর্ক অবস্থানে আছে। তাছাড়া প্রতিপক্ষের  যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত ছাত্রলীগ। তিনি জানান, নির্বাচনের সময়ে 'হল' দখলে রাখতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা থাকবে। সেই সঙ্গে অন্য কোনো সংগঠনের ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ রোধ করা হবে।

চবি ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, নির্বাচনী মৌসুমেও ক্যাম্পাসে সহবস্থানের কোনো চিহ্ন মাত্র নেই। ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাচল করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কোনো মামলা ছাড়াই আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।  উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল দুপুরে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাদা পোশাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ছাত্রলীগের পক্ষাবলম্বন করছে। এটা দুঃখজনক।